নেইমারের আপাতত বড় লক্ষ্য কী? এমন প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে, ব্রাজিলের জার্সি গায়ে আরেকটা বিশ্বকাপ খেলা।২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছে থেকেই তো শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে গেছেন নেইমার।
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে পাওয়া সেই চোটের পর থেকে জাতীয় দলে আর ডাক না পেলেও নেইমারের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু আনচেলত্তির শর্ত একটা জায়গায়, নেইমারকে পুরো ফিট থাকতে হবে!
কিন্তু নেইমার আর ফিট থাকা- এ যেন দুষ্কর বিষয়গুলোর একটি। এই তো গত বছরের ডিসেম্বরেও হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি। বারবার চোটে পড়া নেইমার কয়েকদিন আগে এটাও জানিয়েছেন, ২০২৬ এর ডিসেম্বরে অবসর নিতে পারেন। তবে ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার ক্লেবেরসন মনে করেন, নেইমার এখনই অবসর নেবেন না। তাঁর মতে, আগামী বছর মায়ামিতে মেসির পাশে দেখা যেতে পারে নেইমারকে।
ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের গোলের সঙ্গে আলাপকালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ক্লেবেরসন বলেছেন, ‘নেইমার জীবনে অনেক কঠিন সময় পার করেছে। অসংখ্যবার চোট পেয়েছে। এরপরও ও ফুটবলে ফিরতে চেষ্টা করেছে। বারবার চোট পাওয়া ওর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠের বাইরের জীবনও ওকে খুব একটা সহায়তা করছে না। বাণিজ্যিক নানা ব্যস্ততাসহ অনেক কিছুই সামলাতে হচ্ছে ওকে। ও কঠোর চেষ্টা করছে, কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর ওর জন্য শরীর সামলানোটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকাপটা হয়তো ওর জন্য একটু তাড়াতাড়ি হয়ে যেতে পারে।’
তবে বিশ্বকাপ খেলতে নেইমারের শতভাগ ফিট থাকার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন ক্লেবেরসন, ‘তবে আমরা তো নেইমারের কথা বলছি। ৭০ বা ৮০ শতাংশ ফিট থাকলেও ও অসাধারণ ফুটবলার। ভালো খেলতে ওর শতভাগ ফিট থাকা লাগে না। ওর মতো মানের খেলোয়াড় খুব বেশি নেই। হয়তো রোনালদিনিওকেও এই বিষয়টার সঙ্গে তুলনা করা যায়।’
এরপর নেইমারের সেই অবসরেরর ভাবনা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন সাবেক এই বিশ্বজয়ী তারকা। তাঁর মতে, নেইমার চলতি বছর শেষেই অবসর নেবে না, ‘চোট ওর ক্যারিয়ারকে ধাক্কা দিয়েছে, কিন্তু আমি মনে করি না ও (এ বছরই) অবসর নেবে। আমার মনে হয় ও এমএলএসে যেতে পারে। ব্রাজিলে খেলা তার জন্য কঠিন হয়ে গেছে, কারণ এখানে ওর ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকে। সবাই চায় ২০১০ সালের সেই নেইমারকে দেখতে। কিন্তু এখন ও বয়সে বড় হয়েছে, ওর জীবনও বদলেছে। আমি চাই ও যেন খেলা চালিয়ে যায় এবং ব্রাজিলের জন্য ভালো করে। এমএলএসে ওকে দেখতে দারুণ লাগবে।’
এমএলএসে নেইমারের পুরোনো বন্ধু লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেস আছেন। এর আগে এ দুজনের সঙ্গে বার্সেলোনায় আক্রমণে সেই বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রিফলা গঠন করেছিলেন। তবে কি মায়ামিতেও তিনজনকে একসঙ্গে দেখা যাবে? এমন সম্ভাবনার বিষয়ে ক্লেবেরসন বলেছেন ‘মায়ামিতে মেসি, সুয়ারেস ও নেইমারকে একসঙ্গে খেলতে দেখতে সবাই চাইবে। ওরা একসঙ্গে হলে সেটা এমএলএসের জন্যই দুর্দান্ত ব্যাপার হবে।’
ক্লেবেরসন যোগ করেন, ‘ব্যাপারটা শুধু ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণের নয়, ব্যবসায়িকও। আর ব্যবসায়িক দিক থেকে ডেভিড বেকহামের জন্য বিষয়টা হবে অসাধারণ। ওরা (মেসি, সুয়ারেস, নেইমার) ওদের সেরা রূপে না থাকলেও ওদের একসঙ্গে খেলতে দেখতে চাইবে সবাই। আমেরিকার সমর্থকেরাও সেটাই দেখতে চায়। এই তিনজন একঙ্গে হলে, সেটা সত্যিই বিশাল ব্যাপার হবে।’