চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর লড়াই শেষ হয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ৬ দলের মধ্যে ৪ দলই বিদায় নিয়েছে। গতকাল নিউক্যাসলের বিপক্ষে ৭-২ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এদিকে আরেক ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যামও বিদায় নিয়েছে। ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে জয় পেলেও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ গোলে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে ইগর তুদরের দল।
দুই ইংলিশ ক্লাবের বিদায়ের দিনে প্রিমিয়ার লিগের মান রেখেছে লিভারপুল। ঘরের মাঠে গালাতাসারাইকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে অলরেডরা (দুই লেগ মিলিয়ে জয় ৪-১ গোলে)।
অন্যদিকে আতালান্তার বিপক্ষে বায়ার্ন ৪-১ গোলে জয়ে পেয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে বায়ার্ন আতালান্তার জালে মোট ১০ গোল করেছে (১০-২ ব্যবধানে জয়)।
তা এত ঘটনার রাতে এমন এক কীর্তি দেখেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে একদিনে ৩-এর অধিক ম্যাচ হয়েছে এমন ম্যাচ ডে-তে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডের দেখা মিলেছে। গতকালকের ৪ ম্যাচ মিলিয়ে মোট ২৩টি গোল হয়েছে। বার্সেলোনার ম্যাচে ৯ গোল, লিভারপুল ম্যাচে ৪, টটেনহ্যাম ম্যাচে ৫ ও বায়ার্ন-আতালান্তার ম্যাচে ৫ গোল হয়েছে।
এদিকে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো হতাশা উপহার দিলেও স্প্যানিশ ক্লাবগুলো নিজেদের একটা রেকর্ড আরও এগিয়ে নিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে কোয়ার্টার ফাইনালে কমপক্ষে ৩টি স্প্যানিশ ক্লাব জায়গা করে নিয়েছে - এমন ঘটনা ঘটেছে এ নিয়ে ঘটল ১৩ বার, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংলিশ ক্লাবগুলো এমন অর্জনের (অন্তত ৩টি ক্লাব কোয়ার্টার ফাইনালে) দেখা পেয়েছে মাত্র ৮ বার।
রেয়াল মাদ্রিদ আগের দিন ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। গতকাল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের শেষ আটে যাওয়ার মাধ্যমে স্পেনের তিন ক্লাবের জায়গা নিশ্চিত হয়েছে।
এমন গোলবন্যার রাতে বার্সেলোনা-নিউক্যাসলের ম্যাচটি উত্তেজনা ছড়িয়ে অনেক। প্রথমার্ধেই ৫ গোলের দেখা মিলেছে, যেখানে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় হান্সি ফ্লিকের দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অন্যরকম এক বার্সেলোনার দেখা মিলেছে। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৬ মিনিটেই তিনবার নিউক্যাসলের জালে বল জড়ায় বার্সেলোনা।
৫ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে দলের পঞ্চম ও ষষ্ঠ গোলে নিজের নাম লেখান রবার্ত লেভান্ডভস্কি। ৭২তম মিনিটে প্রথম গোল করা রাফিনিয়া নিজেদের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান। বার্সেলোনার হয়ে একটি করে গোল করেন লামিন ইয়ামাল, ফেরমিন লোপেস ও মার্ক বার্নাল।
এদিকে আগের লেগে গালাতাসারাইয়ের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া লিভারপুল ঘরের মাঠে তর্কসাপেক্ষে নিজেদের মৌসুম সেরা খেলাটাই দেখিয়েছে। প্রথমার্ধের ২৫তম মিনিটেই হাঙ্গেরিয়ান তারকা ডমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে পারত লিভারপুল। তবে মোহাম্মদ সালাহ পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর ভুল করেননি মিশরের এই তারকা। ৫১ ও ৫৩তম মিনিটে সালাহর টানা দুই অ্যাসিস্ট থেকে লিভারপুলকে আরও দুই গোল এনে দেন উগো একিতিকে ও রাইয়ান খ্রাপেনবের। এরপর ৬২তম মিনিটে নিজেই প্রথম গোলের দেখা পান।
অপর ম্যাচে আরেক ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম শুরুর দিকে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় জয়ের দেখা পায়নি। প্রথম লেগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৫-২ গোলে হারায় ঘরের মাঠে ৩-২ গোলের জয়ও কাজে আসেনি ইগর তুদরের দলের। টটেনহ্যামে কোচ হিসেবে এটি তাঁর প্রথম জয় হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় আটকাতে পারেননি।
দিনের শেষ ম্যাচে আতালান্তাকে দাঁড়াতেই দেয়নি বায়ার্ন। আগের লেগে ৬ গোল করা বায়ার্ন ঘরের মাঠেও দাপট দেখিয়েছে। হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে আতালান্তার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।