লিভারপুল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন সালাহ!

জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতেই লিভারপুল ছাড়ার জোর গুঞ্জন উঠেছিল মোহামেদ সালাহর। সেই গুঞ্জন উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ইংলিশ ক্লাবটিতে থেকে যান মিসরীয় তারকা ফরোয়ার্ড। তবে অল রেডের জার্সিতে আর খুব বেশিদিন দেখা যাবে না সালাহকে।

চলতি মৌসুম শেষেই লিভারপুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এ তারকা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সালাহ।

এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) দেওয়া ভিডিও বার্তায় সালাহ বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই দিনটা এসে গেছে। এটা আমার বিদায়ের শুরু। আমি মৌসুম শেষে লিভারপুল ছেড়ে যাচ্ছি।’

এর আগে ২০১৭ সালের জুনে ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমা থেকে লিভারপুলে যোগ দেন সালাহ। সেই থেকে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির জার্সিতে ৪৩৫ ম্যাচে ২৫৫ গোল করেছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড, যা ক্লাব ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। চারবার প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি জিতেছেন প্রোফেশনাল ফুটবলার’স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা ফুটবলের খেতাবও।

তবে চলতি মৌসুমে নিজেকে যেন হারিয়ে খুঁজছেন সালাহ। এখন পর্যন্ত এ মৌসুমে খেলা ৩৪ ম্যাচে মোটে ১০ বার জাল খুঁজে পেয়েছেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা আগের মতো নেই। এরপর জানুয়ারিতে দল ছাড়ার গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জন থেমে গেলেও এবার মৌসুম শেষে ক্লাবই ছাড়ছেন সালাহ।

অবশ্য ২০২৫ সালে লিভারপুলের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি নবায়ন করেছিলেন সালাহ। তবে ক্লাবের সঙ্গে ‘সমঝোতায় পৌঁছানোয়’ ফ্রি ট্রান্সফারেই লিভারপুল ছাড়বেন তিনি। লিভারপুল ছাড়ার পর কোন ক্লাবে যোগ দেবেন, সেটা স্পষ্ট করেননি মিসরীয় তারকা।

ভিডিও বার্তায় সালাহ বলেছেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি এই ক্লাব, এই শহর, এই মানুষগুলো আমার জীবনের এতটা অংশ হয়ে উঠবে। লিভারপুল শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়— এটা এক আবেগ, এক ইতিহাস, এক আত্মা। যারা এই ক্লাবের অংশ নয়, তাদের কাছে এটা ভাষায় বোঝানো কঠিন। আমরা একসঙ্গে জয় উদযাপন করেছি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রফিগুলো জিতেছি এবং জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলো একসঙ্গে পার করেছি।’

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সালাহ বলেছেন, ‘আমি এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই— বিশেষ করে অতীত ও বর্তমানের সতীর্থদের।’

আর সমর্থকদের নিজে সালাহর ভাষ্য, ‘তোমরা আমাকে জীবনের সেরা সময় উপহার দিয়েছ। আমি সবসময় তোমাদের একজনই থাকব। এই ক্লাব আমার এবং আমার পরিবারের কাছে সবসময় ঘর হয়ে থাকবে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। “তোমাদের কারণেই আমি কোনোদিন একা হয়ে পড়ব না।’