মূল লড়াইয়ের আগে বড় বিপর্যয় এড়াল বাংলাদেশ

মিশনটা ছিল নিজেদের প্রস্তুতির। তবে মাঠের লড়াইয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নামার আগে ভিয়েতনামের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে হ্যাভিয়ের কাবরেরার দল। প্রীতি ম্যাচে ৩৮তম মিনিটেই ৩ গোলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ অবশ্য খানিকটা প্রাপ্তি খুঁজে নিতে পারে। প্রথমার্ধের পর বড় হারের শঙ্কা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফরমেশন (৫-৩-২-১) পরিবর্তন করে ভিয়েতনামকে গোল বঞ্চিত রেখেছে হামজা চৌধুরীরা।

বাংলাদেশের এমন ফলাফল অবশ্য অনেকেই অনুমান করেছিলেন। অন্তত র‍্যাঙ্কিং তা-ই বলছে। ১০৩-এ থাকা ভিয়েতনাম বাংলাদেশ থেকে ৭৮ ধাপ এগিয়ে। 

দ্বিতীয়ার্ধে ভিয়েতনামকে গোল বঞ্চিত রাখাটা তা-ই হারের মধ্যে ছোট প্রাপ্তিই বলা চলে। তবে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশার। পুরো ৪৫ মিনিট জুড়ে প্রাপ্তি বলতে ছিল শুধু একটি মুহূর্ত। এক মাত্র গোলের সুযোগটা তৈরি করতে পেরেছিল ২০তম মিনিটে। তবে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের ডি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন ভিয়েতনামের গোলদকিপার ড্যাং ফন লাম। 

অবশ্য এই গোলের সুযোগ তৈরি করার আগে বাংলাদেশ দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে। শুরুর একাদশে অবশ্য চমক দেখান কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা। দুই বছর আগে জাতীয় দলে খেলা মেহেদী হাসান শ্রাবণকে নিয়মিত গোলকিপার মিতুল মারমার বদলে সুযোগ দেন। দলের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকেও একাদশে রাখেননি কোচ।

একাদশে চমক দেখালেও মাঠের পারফরম্যান্স শুরুতেই হতাশ করেন গোলকিপার মেহেদী হাসান। অষ্টম মিনিটে কর্ণার থেকে গোলের দেখা পায় ভিয়েতনাম।

গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ কর্ণার ঠেকানোর জন্য এগিয়ে এসে বল নিজের হাতে নিতে চাইলেও তা ধরতে ব্যর্থ হন। ফাঁকা পোস্টে মিডফিল্ডার ফাম তুয়ান হাই শট নিলেও সেই বল ডিফেন্ডার জায়ান আহমেদের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ লড়াই করা তো দূরের থাক। কিছু সময় পর ফের পিছিয়ে পড়ে হামজারা।

১৮তম মিনিটে ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক হেডে সফরকারীদের দ্বিতীয় গোল করেন ফাম সুয়ান মান। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশ অবশ্য ২০তম মিনিটে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। উল্টো প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে ৩৮তম মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বা পায়ের দুর্দান্ত এক শটে ভিয়েতনামের তৃতীয় গোলটি করেন হেই লং। 

৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা সতর্ক ফুটবল খেলেছে। তবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দুই দলের কেউই। 

‎‎দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুই পরিবর্তন করেন বাংলাদেশ কোচ। মিরাজুল ইসলামের জায়গায় শেখ মোরছালিন আর ফাহামিদুল ইসলামের জায়গায় শাহরিয়ার ইমনকে নামান। তবুও আক্রমণের ধার বাড়েনি বাংলাদেশের। উল্টো ভিয়েতনাম আক্রমণ করে গিয়েছে। 

‎৬৯তম মিনিটে আরও দুই পরিবর্তন আনেন কাবরেরা। দীর্ঘ দেড় বছর পর বাংলাদেশের জার্সিতে নামেন বিশ্বনাথ ঘোষ, আরেক বদলি সুমন রেজা। ৭৮তম মিনিটে হ্যাভিয়ের কাবরেরা দলের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকেও নামান। লিড বাড়াতে মরিয়া ভিয়েতনাম চেষ্টা করলেও সফল হয়নি, দ্বিতীয়ার্ধে গোলকিপার মেহেদী হাসান একাধিক গোল ঠেকিয়ে দিয়েছেন। 

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই চেষ্টা করলেও গোল করতে পারেনি। ফলে ৩-০ গোলের স্কোরলাইনেই ম্যাচ শেষ হয়।

৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।