এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটা রাঙাতে পারল না বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শুরুর ১৫ মিনিট নজর কাড়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রেখেছিল। কিন্তু শুরুর দিকে ভালো খেলেও ৩১তম মিনিটে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ পুরো ম্যাচে গোলের দেখা পায়নি।
যদিও দ্বিতীয়ার্ধে অন্য রকম এক ফুটবল উপহার দিয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণে সিঙ্গাপুরের রক্ষণকে এলোমেলো করে রেখেছিল সফরকারীরা। তবে কখনো গোলপোস্টে লেগে বল ফিরে আসা, আবার কখনো ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের দেখা আর পায়নি বাংলাদেশ।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটাতে লড়াই করলেও সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
সিঙ্গাপুরের ৩০ হাজার দর্শকের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অবশ্য শুরুটা দারুণ করেছিল। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে বল নিজেদের দখলে রেখে গোছানো আক্রমণ করে বাংলাদেশ। ১৫তম মিনিটে ডি বক্সের মাঝখানে শমিত সোমকে দারুণ এক বল উড়িয়ে দিয়েছিলেন সাদ উদ্দিন। শমিত অবশ্য হেডও দিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের জাল লক্ষ্য করে। কিন্তু বল ফারপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
বাংলাদেশের শুরুর আক্রমণ সামলে সিঙ্গাপুর ১৮তম মিনিট থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৪টি আক্রমণ করে। তবে কোনোভাবেই বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। কিন্তু ৩১তম মিনিটে হামজাদের দেয়াল ভেঙে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে নেন হ্যারি স্টুয়ার্ট।
সিঙ্গাপুরের গোলের পেছনে অবশ্য বাংলাদেশেরও দায় ছিল। মাঝ মাঠ থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে বল বাড়িয়েছিলেন অধিনায়ক সোহেল রানা। তবে ফাহিম সেই বল পায়ে রাখতে ব্যর্থ হন। যা মুহূর্তেই ছিনিয়ে নেন সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডার ইরফান ফান্দি।
ফাহিম থেকে বল নিয়েই তড়িৎ গতিতে বা প্রান্তে থাকা গ্লেন কেওয়েকে বল বাড়ান ইরফান ফান্দি। সেই বল পেয়ে একা থাকা মিতুল মারমার দিকে জোরালো শট নেন গ্লেন। তবে সেই যাত্রায় বল ঠেকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন মিতুল মারমা। কিন্তু মিতুলের কাছ থেকে বল ছুটে গিয়ে ডি বক্সে আন মার্কড থাকা হ্যারি স্টুয়ার্ট বল পেয়ে যান। জোরালো এক শটে সিঙ্গাপুরের প্রথম গোল পেতে এবার খুব একটা ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ সমতা ফেরানোর সহজ এক সুযোগ হাতছাড়া করে ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে। সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডার ইরফান ফান্দির ভুলে ডি বক্সের কাছে বল পেয়ে যান ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। বল পেয়েই ডি বক্সের ভেতরে থাকা মোরসালিনকে বল বাড়ান ফাহিম।
সে সময় মোরসালিনের সামনে এক ডিফেন্ডার ও গোলকিপারই ছিল একমাত্র বাধা। জোরালো শট নিলেও সেই শট ঠেকিয়ে দেন ডিফেন্ডার সাফুয়ান বাহারউদ্দিন। শট ঠেকালেও দ্বিতীয় দফায় বল নিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড ফাহিম। তবে তখন রেফারির কাছে পেনাল্টির আবেদন করলেও তাতে সাড়া মেলেনি। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সিঙ্গাপুর।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বড় সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের ভুলে মাঠের বা প্রান্তে বল পেয়ে যান হামজা চৌধুরী। সঙ্গে সঙ্গে শমিত সোমকে বল বাড়ান এই ডিফেন্ডার। বল পেয়েই ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে ডি বক্সের বা দিকে বল বাড়ান শমিত। দৌড়ে বল পায়ে রেখে লক্ষ্যে শট নিলেও সিঙ্গাপুরের গোলকিপার ইজওয়ান মাহবুদ তা রুখে দেন।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশ কোচ ৬০তম মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের বদলে ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমনকে নামান। এক বদলেও ম্যাচের মোড় যখন ঘুরাতে পারছিল না বাংলাদেশ তখন হাভিয়ের কাবরেরা ৭১তম মিনিটে আরও দুটি পরিবর্তন আনেন। এবার মোরসালিন ও ফাহমিদুলকে তুলে বিশ্বনাথ ঘোষ ও মিরাজুলকে নামান বাংলাদেশ কোচ।
মাঠে নেমেই ম্যাচে নিজের প্রভাব দেখান বিশ্বনাথ। ৭৫তম মিনিটে বা প্রান্ত থেকে সাদ উদ্দিনের পাস পেয়ে বিশ্বনাথ ডি বক্সের বাইরে হামজার কাছে দারুণ এক বল বাড়ান। তবে হামজা বল পেয়েই জোরালো শট নিলেও তা ফারপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৭৯তম মিনিটে বাংলাদেশ সেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়েই গিয়েছিল। তবে বা প্রান্ত থেকে হামজা চৌধুরীর বাড়ানোর বলে সাদ উদ্দিনের নেওয়া শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। আক্রমণে মাত্রা শেষ দিকে আরও বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ।
৮২তম মিনিটে ডি বক্সের ভেতর বিশ্বনাথের থ্রো ইনে জটলার মধ্যে বল পেয়ে যান শাহরিয়ার ইমন ও সাদ উদ্দিন, কিন্তু কেউ সেই বল জালে জড়াতে পারেননি। শেষ দিকে চেষ্টা করেও কোনো দলই আর গোলের দেখা পায়নি।
সিঙ্গাপুরের কাছে হারে ৫ পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব শেষ করল বাংলাদেশ।