১৪ বছরে যা হয়নি, সেটাও দেখতে হলো রেয়াল মাদ্রিদকে

চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বশেষ মৌসুমে দুদলই বিদায় নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। তবে এবার একদল অন্তত টুর্নামেন্টের শেষ চারে উঠবেই। কারণ এবার যে কোয়ার্টার ফাইনালেই মুখোমুখি রেয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। আর সে ম্যাচের প্রথম লেগে গতকালই মাঠে নেমেছিল দুদল।

ম্যাচটার আগে পর্যন্ত পরিসংখ্যানের আলোয় উজ্জ্বল ছিল মাদ্রিদ। কিন্তু সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে প্রথম লেগের ম্যাচটার পর সব হিসাব উল্টে গেছে।

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ২০১২ সালের এপ্রিলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনোই রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জিততে পারেনি বায়ার্ন। মাঝের এই ১৪ বছরে দুদল আরও ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ২ ড্রয়ের বিপরীতে ৭ বারই হেরেছিল বায়ার্ন। অবশেষে স্প্যানিশ ক্লাবটির বিপক্ষে দীর্ঘ জয়খরা কাটিয়েছে জার্মান ক্লাবটি। সান্তিয়োগো বের্নাবেউয়ে গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন।

গতকালের জয়ে ইতিহাসের পাল্লাও এখন হেলে পড়েছে জার্মান ক্লাবটির দিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম লেগে অ্যাওয়ে ম্যাচে গতকালের আগ পর্যন্ত ১৩ বার জিতেছে বায়ার্ন। এর মধ্যে ১২ বারই ফিরতি লেগের ফাঁড়া কাটিয়ের পরের রাউন্ডে উঠেছে বাভারিয়ানরা।

অন্যদিকে ইউরোপিয়ান কাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে এ নিয়ে মোটে ষষ্ঠবার নক আউটে দুই লেগের ম্যাচে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে হারল রেয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ক্লাবটির জন্য শঙ্কার বিষয়, এর আগে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে হারা ৫ বারই পরের রাউন্ডে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে মাদ্রিদ।

মাদ্রিদের এমন হিসাব বদলে দেওয়া রাতে অস্বস্তির একটা মাইলফলক ছুঁয়েছেন দলটির কোচ আলভারো আরবেলোয়া। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর আরবেলোয়ার অধীনে এখন পর্যন্ত ১৯টি ম্যাচ খেলেছে মাদ্রিদ, এর মধ্যে ১৩ জয়ের বিপরীতে হেরেছে বাকি ৬টিতে।

অন্যদিকে গত বছরের জুনে দায়িত্ব নিয়ে এ বছরের শুরুতে ছাঁটাই হওয়া শাবি আলোনসোর অধীনে ৩৪ ম্যাচ খেলে মাদ্রিদ হেরেছিল ৬টিতে।

গতকালের ম্যাচে ফেরা যাক। ম্যাচের প্রথম দিকে অন্তত দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার পর ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। সার্জ নাব্রির পাসে গোল করে মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াস। আর দ্বিতীয়ার্ধের ২০ সেকেন্ডের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেইন।

মাদ্রিদের হয়ে একটি গোল ফিরিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ডের পাসে গোলটি করেন ফরাসি স্ট্রাইকার। এর বাইরে ভিনিসিয়ুস ও এমবাপ্পে অন্তত আরও দুবার করে গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের প্রতিবারই হতাশ করেছেন মানুয়েল নয়ার।

এতে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মাদ্রিদকে। আগামী সপ্তাহে শেষ আটের ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুদল। ওই ম্যাচটি হবে বায়ার্নের মাঠে। 

টুর্নামেন্টের আরেক কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গতকাল  স্পোর্তিং সিপিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। প্রায় ড্র হতে বসা ম্যাচের যোগ করা সময়ে কাই হাভার্টসের গোলে লিসবন থেকে জয় নিয়ে ফেরে ইংলিশ ক্লাবটি।