২০ বছরে যা হয়নি, সেটাই দেখতে হলো বার্সেলোনাকে

আরেকটা টুর্নামেন্টের নকআউট, আরেকবার প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে কি চলতি মৌসুমের আরেকটা শিরোপার আশাও শেষের পথে বার্সেলোনার? অন্তত ঘরের মাঠে গতকাল বুধবার রাতের ম্যাচের ফল তেমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে!

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে গতকাল রাতে কাম্প নেউয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির মাঠে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০ বছরের বেশি সময় পর জয়ের দেখা পেল আতলেতিকো।

গতকালের আগে কাম্প নেউয়ে আতলেতিকো শেষবার জিতেছিল ২০০৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে। সেই থেকে মাঝের এই সময়টাতে ২৫ ম্যাচ খেলে ৮ জয়ের বিপরীতে বাকি ১৭টি ম্যাচে ড্র করতে পেরেছিল আতলেতিকো। মাদ্রিদের ক্লাবটির ‘অসাধ্য’ সাধনে ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত একটি গোল করেছেন হুলিয়ান আলভারেস। অন্য গোলটি আলেক্সান্দার সরলথের। অন্যদিকে বার্সেলোনার প্রথমার্ধের শেষদিকে হয়ে লাল কার্ড দেখেছেন পাউ কুবার্সি।

তা শুরুতে আকেরটা টুর্নামেন্টের কথা বলা হলো কেন? চলতি মৌসুমে কোপা দেল রের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ফেব্রুয়ারির প্রথম লেগে মেত্রোপলিতানোতে গিয়ে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া বার্সা মার্চে দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-০ ব্যবধানের জয় আদায় করলেও ফাইনালের টিকিট পেতে সেটা যথেষ্ট ছিল না।

এবার সেই ঘরের মাঠ, যেখানে দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে রীতিমতো দুর্গ বানিয়ে ফেলেছিল বার্সা, সেই শক্তির জায়গাতেই হেরে বসেছে। আতলেতিকোর মাঠে গিয়ে ফিরতি লেগে ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা যে সহজ হবে না, সেটা ভালো করেই জানেন বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক। তবে এখনও আশা ছাড়ছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বার্সার জন্য আশার আলো হতে পারে চলতি সপ্তাহের শুরুতে আতলেতিকোর বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচ। ওই ম্যাচে মেত্রোপলিতানোতে গিয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। তবে গতকালের হারের জন্য ভাগ্যকেও দোষ দিয়েছেন ফ্লিক, ‘প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছি, আর দ্বিতীয়ার্ধেও একজন কম নিয়ে ভালো লড়েছি। একজন কম নিয়েও আমরা সবটা উজাড় করে দিয়েছি। সত্যি বলতে, আজ ভাগ্য আমাদের পাশে ছিল না।’

ফ্লিক যোগ করেন, ‘আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। এখনও কিছুই শেষ হয়নি। সেমিফাইনাল হয়তো দূরে, কিন্তু আমাদের সুযোগ আছে এবং আমরা চেষ্টা করব।’

কুবার্সির লাল কার্ডটার আগ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অবশ্য বার্সার কাছেই ছিল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে জিউলিয়ানো সিমেওনেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কুবার্সি। রেফারি শুরুতে স্প্যানিশ এ সেন্টারব্যাককে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। পরে ভিএআর যাচাইয়ে সিদ্ধান্ত বদলে কুবার্সিকে লাল কার্ড দেখান তিনি।

আতলেতিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেছেন কুবার্সি। ছবি: রয়টার্স

ওই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকেই গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন আলভারেস। আর নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগে বার্সার জালে আরেকবার বল জড়ান সরলথ।

কুবার্সির লাল কার্ডের পর থেকেই মূলত ম্যাচের চিত্রনাট্যে বড় বদল এসেছে। ওই লাল কার্ড নিয়ে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফ্লিক। পাশাপাশি আতলেতিকো ডিফেন্ডার মার্ক পুবিলকে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি। আর ওই ঘটনায় বার্সাকে পেনাল্টি দেননি বলেও রেফারির প্রতি ক্ষোভ ঝেড়েছেন বার্সা কোচ।

ঘটনাটি ম্যাচের ৫৪ মিনিটের। আতলেতিকো গোলকিপার হুয়ান মুসোর বাড়ানো একটি বল হাত দিয়ে ধরে কিক নেওয়ার জন্য থামান পুবিল। ফ্লিকের মতে, সেটি হ্যান্ডবল এবং ওই ঘটনায় পুবিলকে লাল কার্ড ও বার্সাকে পেনাল্টি দেওয়া উচিৎ ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বার্সা কোচ বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা কীভাবে হতে পারে। গোলকিপার খেলা শুরু করে দেওয়ার পর একজন ডিফেন্ডার হাত দিয়ে বল থামায়। এরপর আবার খেলতে থাকে। আমার কাছে এটা পরিষ্কার লাল কার্ড। অন্তত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। সাথে একটা পেনাল্টি। কিন্তু বিষয়টা কেন রিভিউ করা হয়নি, সেটা ভিএআর ভালো বলতে পারবে।’

ফ্লিক আরও বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, এটার জন্য লাল কার্ড দেখানো হনি। এটা মোটেও ভালো লাগছে না। অন্যায্য মনে হচ্ছে। তবুও আমাদের মেনে নিতে হবে। তবে আগামী মঙ্গলবার ফিরতি লেগে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

ম্যাচে ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন এক জার্মান। ভিএআর থেকে কুবার্সির লাল কার্ড এবং পুবিলকে লাল কার্ড না দেখানো- এসবের জন্য ওই ভিএআর রেফারিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফ্লিক, ‘আমরা লাল কার্ড দেখলাম, সঙ্গে সঙ্গেই আতলেতিকো মাদ্রিদ প্রথম গোলটা পেল... আজ ভিএআর আতলেতিকোর পক্ষে খুব মনোযোগী ছিল। ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন একজন জার্মান। তাই জার্মানিকে ধন্যবাদ।’

বার্সা কোচ যখন রেফারি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়তে ব্যস্ত, অন্যদিকে সিমেওনে নজর দিলেন কাম্প নেউয়ে প্রথম জয়ের দিকেই। আতলেতিকো কোচ বলেছেন, ‘এটা সত্য যে, আমরা আগে কখনোই এই স্টেডিয়ামে জিতিনি। এখানে জেতা খুবই কঠিন। পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে বার্সেলোনাও হয়তো (চলতি মৌসুমে) ইউরোপের সেরা দল। কিন্তু আমরা দলগতভাবে ভালো খেলেছি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওদের চাপে ফেলেছি। দ্বিতয়ি গোলটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তবে অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের যে সুবিধা পেয়েছিলাম, সেটাকে কাজে লাগিয়ে আরও গোল করতে না পারাটা দুঃখজনক।’

গতকাল রাতে টুর্নামেন্টের আরেক কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। ঘরের মাঠে পিএসজির হয়ে গোল দুটি করেছেন দেজিরে দুয়ে ও কাভারেস্খেলিয়া।