পিএসজির মাঠে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল লিভারপুল। কিন্তু ঘরের মাঠেও স্কোরলাইনে পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি আর্নে স্লটের দল। অ্যানফিল্ডে গতকাল মঙ্গলবার ফিরতি লেগের ম্যাচেও একই ব্যবধানে হেরেছে ইংলিশ ক্লাবটি। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজেছে লিভারপুলের।
সঙ্গে এটাও নিশ্চিত হয়, মৌসুমটা শিরোপাহীন কাটছে লিভারপুলের। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও যুক্ত হয়েছে ক্লাবটির নামের পাশে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে তৃতীয়বারের মতো দুই লেগেই গোল করতে ব্যর্থ লিভারপুল। আর ইউরোপ সেরার মঞ্চে এক মৌসুমে সর্বাধিক ৫টি হার দেখল অল রেডরা।
লিভারপুলের এমন লজ্জার রাতে চোটে পড়েছেন উগো একিতিকে। ২৩ বছর বয়সী এ ফরাসি স্ট্রাইকারের চোট শুধু লিভারপুলের জন্য নয়, বরং ফ্রান্সের জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে পিছলে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পান একিতিকে। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে স্ট্রেচারে করে তাঁকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। একিতিকের চোট প্রসঙ্গে ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ স্লট বলেছেন, ‘দেখে খুব একটা ভালো মনে হচ্ছে না। খুব খারাপ (গুরুতর) বলেই মনে হচ্ছে। তবে ঠিক কতটা গুরুতর, সেটা এখনই বলা কঠিন। আগামীকাল (বুধবার) আমরা আরও পরীক্ষা করব।’
স্লট আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, একিতিকের চোটে মৌসুমের বাকি সময়টাতে তাঁর পছন্দের আক্রমণভাগকে একসঙ্গে আর খেলাতে পারবেন না। একিতিকের চোট যেমন লিভারপুলকে বিপদে ফেলেছে, তেমনি কপালে ভাঁজ ফেলেছে ফ্রান্সেরও।
সেটা কীভাবে? ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আর দুমাসও বাকি নেই। বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে ফরাসিদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হতে পারেন একিতিকে। কিন্তু হঠাৎ এমন সময় তাঁর চোটে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ফ্রান্স।
একিতিকের লিভারপুল ও ফ্রান্স সতীর্থ ইব্রাহিমা কোনাতের কথায় তেমনটাই উঠে এসেছে। কোনাতে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, চোটটা গুরুতর। অনেক কিছুই শুনেছি। তবে কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। বিশ্বকাপ সামনে থাকায় এটা ওর জন্য খুব কঠিন সময়। আমি ওর জন্য প্রার্থনা করছি।’
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে ১৯টি গোল করেছেন একিতিকে। কয়েকদিন আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও একটি গোল করেছিলেন তিনি।