ব্রাজিলের ৩, ইয়ামাল-সালাহ… বিশ্বকাপের আগে চোটে পড়লেন কারা?

লামিন ইয়ামাল, উগো একিতিকে, মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন, এস্তেভাও, রদ্রিগো, এদের মিলিতাও থেকে মোহামেদ সালাহ… ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, চোটে পড়া খেলোয়াড়দের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে।

এদের মধ্যে অনেকেই চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন বলে আশা করছে দলগুলো। আবার কারও কারও বিশ্বকাপের আশা একেবারে শেষ হয়ে গেছে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, সাম্প্রতিক চোটে পড়া খেলোয়াড়দের হালচাল কেমন। ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে কজনই বা খেলতে পারবেন। আর কাদের বিশ্বকাপের আশা একেবারে শেষ হয়ে গেছে।

 

মোহামেদ সালাহ (মিসর):

চোটে পড়া উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন মোহামেদ সালাহ। প্রিমিয়ার লিগে গত শনিবার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান মিসরীয় ফরোয়ার্ড। এই চোটে মৌসুম শেষ হয়ে গেছে সালাহর।

মিসর জাতীয় দলের ফুটবল পরিচালক ইব্রাহিম হাসান জানিয়েছে, চোট কাটিয়ে ফিরতে সালাহর ৪ সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। এ অর্থ, লিভারপুলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না সালাহকে। ক্লাবের জার্সিতে চলতি মৌসুমে আর খেলা না হলেও ইব্রাহিম হাসান আশাবাদী, বিশ্বকাপে পুরো ফিট সালাহকেই পাবে মিসর।  

অবশ্য বিশ্বকাপের আগে সালাহর চোট পাওয়া নতুন নয়। এর আগে ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে কাঁধে চোট পেয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি সালাহ। গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে ফিরে দুটি গোলও করেছিলেন তিনি।

 

লামিন ইয়ামাল (স্পেন):

এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম ভরসা হওয়ার কথা তাঁর। কিন্তু গত সপ্তাহে সেলতা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি নেওয়ার পর হঠাৎই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইয়ামাল। এরপর ব্যথায় কোঁকড়াতে থাকেন। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ইয়ামালকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়।

পরে ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে আর খেলতে পারবেন না ইয়ামাল। বার্সা এটাও জানিয়েছে, ইয়ামালের সুস্থ থেকে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে। এতে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইয়ামালের খেলা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন ও সার্জ নাব্রি (জার্মানি):

একই ধরনের চোটে পড়েছেন জার্মানি গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনও। গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ার পর এখন পুনর্বাসনে আছেন স্টেগেন। তবে ৩৩ বছর বয়সী গোলকিপারকে বিশ্বকাপে পাওয়া নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে স্টেগেনের খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।

স্টেগেনের অনুপস্থিতিতে মানুয়েল নয়ার কিংবা অলিভার বাউমানকে ভরসা করতে পারেন নাগেলসমান। অন্যদিকে জার্মান স্ট্রাইকার নাব্রিরও বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত নয়। ডান ঊরুর অ্যাডাক্টর পেশি ছিঁড়ে যাওয়ায় মৌসুম শেষ হয়ে গেছে নাব্রির।

 

এস্তেভাও, রদ্রিগো ও এদের মিলিতাও (ব্রাজিল):

বিশ্বকাপের সর্বাধিক ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছে সেই ২০০২ সালে। দীর্ঘ দুই যুগের খরা ঘোচানোর মঞ্চে যাওয়ার আগে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ব্রাজিল। একে একে চোটে পড়েছেন এস্তেভাও, রদ্রিগো ও এদের মিলিতাও।

এদের মধ্যে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে চেলসি ফরোয়ার্ড এস্তেভাও মৌসুমের বাকি অংশে আর খেলতে পারবেন না। ১৯ বছর বয়সী এ তারকার বিশ্বকাপ খেলাও অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে পড়েছে। যদিও ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি আশা করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন এস্তেভাও। তবে দুঃসংবাদ দিয়েছেন দ্য অ্যাথলেটিকের সাংবাদিক মারিও কর্তেহান। তাঁর মতে, এস্তেভাওয়ের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

অন্যদিকে ডান হাঁটুর মেনিস্কাস ও এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন রদ্রিগো। বিশ্বকাপ খেলা হবে না রেয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে অস্ত্রোপচার করাতে যাচ্ছেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না মিলিতাওয়ের।

 

উগো একিতিকে (ফ্রান্স):

পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে অ্যাকিলিস টেনডন ছিঁড়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন লিভারপুলের ফরাসি স্ট্রাইকার উগো একিতিকে। অস্ত্রোপচার সফল হলেও, চলতি বছরে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা কম তাঁর।

 

ওয়াতারু এন্দো ও তাকুমি মিনামিনো (জাপান):

জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো গত ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠের বাইরে। গোড়ালির চোটের পর পুনর্বাসনে থাকা এ তারকা মৌসুমের শেষ দিকে ফিরতে পারেন। ফলে বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে এন্দোকে। কিন্তু গত ডিসেম্বরে এসিএলের চোটে পড়া মিনামিনোকে নিয়ে চিন্তায় আছে জাপান।