পিএসজি-বায়ার্ন ‘কাচ্চি’র পর আতলেতিকো-আর্সেনালের ‘ডাল-ভাত’

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুই মেরুর দুটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো চ্যাম্পিয়নস লিগ। আগের দিন সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজি-বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচে রোমাঞ্চের কমতি ছিল না। গোল বন্যার সঙ্গে দুদলের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু গতকাল বুধবারের আতলেতিকো মাদ্রিদ-আর্সেনাল ম্যাচটা সেদিক থেকে অনেকটা নিরুত্তাপই কাটল।

দুদলই যেন গোল করার চেয়ে গোল ঠেকানোর কাজেই বেশি মনোযোগী! এমন ম্যাচে যে বেশি গোল দেখা যাবে না, সেটা সহজেই অনুমেয়। তবুও দুদল একটি করে গোল পেয়েছে। দুটোই পেনাল্টিতে। প্রথমার্ধে ভিক্তর ইয়োকেরেসের পেনাল্টি গোলে আর্সেনাল এগিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকেই আতলেতিকো মাদ্রিদকে সমতায় ফেরান হুলিয়ান আলভারেস। এতে মেত্রোপলিতানোতে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

আগামী মঙ্গলবার রাতে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুদল। ফাইনালে ওঠার হিসাবটা লন্ডনের জন্যই জমা রাখল আতলেতিকো-আর্সেনাল।

পিএসজি-বায়ার্ন গোলবন্যার ম্যাচটিকে ফুটবল সমর্থকদের জন্য যদি ‘বিরিয়ানি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে আতলেতিকো-আর্সেনাল ম্যাচ অনেকটাই ‘ডাল-ভাতের’ মতো! সেটা দুদলের মাঠের লড়াইয়ের দিকে তাকালেও বোঝা যাবে। প্রথমার্ধে দুদলই ‘ঘুম পাড়ানি’ ফুটবল উপহার দিল।

এর মধ্যেই প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইয়োকেরেসকে ফাউল করে বসেন আতলেতিকো ডিফেন্ডার দাভিদ হাঙ্কো। ওই স্পটকিকে ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়িয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন ইয়োকেরেস।

সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়ন আতলেতিকো। মার্কোস ইয়োরেন্সের শট বেন হোয়াইটের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৫৬ মিনিটে ওই স্পটকিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন আর্জেন্টাইন তারকা।

চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে আলভারেসের এটি ১০ম গোল। রাদামেল ফালকাওয়ের পর আতলেতিকো মাদ্রিদের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে অন্তত ১০ গোলের কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার।

সমতায় ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধের বাকিটা জুড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদই বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে। তবে গোল পায়নি দিয়েগো সিমেওনের দল। এর মধ্যে গ্রিজমানের একটি শট বারে লেগেছে, লুকমান দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন।

অন্যদিকে ম্যাচের দিকে হাঙ্কোর একটি চ্যালেঞ্জে এবেরেচি এজে পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ের পর সেটি বাতিল করে দেন। সিদ্ধান্তের এমন বদল দেখে ওই সময় মাঠেই বেশ ক্ষিপ্ত মনে হয়েছিল মিকেল আর্তেতাকে।

ম্যাচ শেষেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়তে ছাড়েননি আর্সেনাল কোচ। আর্তেতার দাবি, ওই রেফারির ওই সিদ্ধান্তটি ছিল নিয়মের বাইরে। আর সেটিই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে আর্তেতা বলেছেন, ‘বিষয়টা আমাকে ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছে। যখন সেখানে কোনো ‘নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ ছিল না, তাহলে এজের পেনাল্টিটা বাতিল হলো কীভাবে। এটা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। এই পর্যায়ে এসে এমনটা হওয়া উচিত নয়।’

আর্সেনাল কোচ যোগ করেন, ‘এটা নিয়মের বাইরে ছিল। আমি বুঝতে পারছি না। স্পষ্ট সংঘর্ষ ছিল। উনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সেটাকে ১৩ বার দেখে উল্টে দেওয়া যায় না। নয় মাস ধরে এত লড়াই করে আমরা এখানে (সেমিফাইনালে) এসেছি। এটা এমন একটা গোলের সুযোগ ছিল, যা পুরো সেমিফাইনালের চিত্র বদলে দিতে পারত। এমনটা হওয়া উচিত নয়।’

অন্যদিকে আতলেতিকো কোচ সিমেওনের দাবি, আর্সেনাল প্রথমার্ধে যে পেনাল্টিটা পেয়েছে, সেটা রেফারির উচিত ছিল আরও বেশি যাচাই করা। সিমেওনে বলেছেন, ‘আমার দৃষ্টিতে প্রথম পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে পেছনের দিক থেকে। (আর্সেনাল) খেলোয়াড় যেন কন্টাক্টের (সংঘর্ষের) জন্য অপেক্ষা করছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি নিশ্চিত হওয়া দরকার।’