কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা সদস্যভুক্ত ২১১ দেশের ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ফিফার ৭৬তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। কিন্তু এ বৈঠকের জন্য উড়াল দিলেও ইরানের কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বকাপ শুরুর মোটে কয়েকসপ্তাহ আগে এমন ঘটনা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, ইরানের কর্মকর্তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি ছিল ‘অনিচ্ছাকৃত।’ এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফিফার কংগ্রেসে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন দুই কর্মকর্তাসহ ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ। কিন্তু টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়েন তারা। পরবর্তীতে তাদের কানাডায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দ বলেছেন, ‘এটা সরাসরি আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তবে আমি যতদূর জানি, তাদের (কানাডায় প্রবেশের) অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ছিল। তবে অভিবাসনমন্ত্রী এ বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।’
ইরান ইন্টারন্যাশনাল নামের আরেকটি সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত সোমবার কানাডার ভিসা পেলেও মঙ্গলবার মেহেদী তাজকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। কারণ ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এটিকে আবার কানাডা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এদিকে কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী লেনা ডিয়াবের সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দেশটিতে প্রতিটি ভিসা আবেদন আলাদাভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে থাকেন। ডিয়াবের প্রেস সেক্রেটারি তাওস আইত বলেছেন, ‘গোপনীয়তার স্বার্থে আমরা কোনো কোনো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না। তবে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আইআরজিসি কর্মকর্তারা কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য এবং এখানে তাদের কোনো স্থান নেই।’
শুধু ফিফার কংগ্রেসই নয়, গত মঙ্গলবার এশিয়ার ফুটবল নেতাদের বৃহত্তম আনুষ্ঠানিক বৈঠকেও ইরানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন না। ওই বৈঠকে ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইরান সেই বৈঠকে না থাকায় ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।