আট বছরে প্রথমবার

নর্থ কোরিয়ার দল খেলতে যাবে সাউথ কোরিয়ায়

প্রতিবেশী রাষ্ট্র হলেও সাউথ ও নর্থ কোরিয়ার মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। অবস্থা এতটাই শত্রুভাবাপন্ন যে, একে যেন অন্যের মুখও দেখতে চান না। এর প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। যেকোনো ধরনের খেলায় এক দল অন্য দেশের মাটিতে ম্যাচ খেলে না আট বছর হলো।

এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নর্থ কোরিয়ার একটি মেয়েদের ফুটবল ক্লাব ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে সাউথ কোরিয়ায়। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে সাউথ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২০ মে সাউথ কোরিয়ার সুওন এফসি উইমেন্সের মুখোমুখি হবে নর্থ কোরিয়ার ক্লাব নেগোহিয়াং উইমেন্স এফসি। এশিয়ান উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলতে নর্থ কোরিয়া থেকে এরই মধ্যে ২৭ জন খেলোয়াড় ও ১২ জন স্টাফের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের দীর্ঘ দিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। সেই সময় নর্থ কোরিয়ার কোনো দলের সাউথ কোরিয়া সফর আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে নর্থ কোরিয়ার কোরিয়ার অ্যাথলেটরা সর্বশেষ সাউথ কোরিয়া সফর করেছিল ২০১৮ সালে। সে সময় নর্থ ও সাউথ কোরিয়ার অ্যাথলেটরা মিলে যৌথভাবে আইস হকি দল গঠন করেছিল। এরপর থেকেই দুদল আর কেউ অন্য দেশের মাটিতে গিয়ে খেলেনি।

গত কয়েক বছরে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্কের আরও বেশি অবনতি হয়েছে। সাউথ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নর্থ কোরিয়া জানিয়েছে, পুনরেকত্রীকরণের প্রচেষ্টা মানা হবে না।

তা নর্থ কোরিয়ার এবারের সাউথ কোরিয়ায় সফর কি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে? আপাতত তেমনটা মনে করছে না সাউথ কোরিয়া। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাচটি আন্তঃকোরীয় কোনো টুর্নামেন্টের নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতার। সে কারণে এ ম্যাচে সাউথ কোরিয়া সরকারের তেমন ভূমিকা থাকবে না। তবে নর্থ কোরিয়া দলটির সাউথ কোরিয়ায় সফরের সময়কার প্রয়োজনীয় সবধরনের সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিউল কর্তৃপক্ষ।