চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনাল

২০ বছর পর আবার… এবার কী আছে কপালে?

একদিন আগেই একটা সুখবর পেয়েছিল আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটি পয়েন্ট হারানোয় ২২ বছর পর লিগ শিরোপা জয়ের খুব কাছে চলে গেছে মিকেল আর্তেতার দল। প্রিমিয়ার লিগে হাতে থাকা ৩ ম্যাচ জিতলেই ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর আরেকবার লিগ জিতবে আর্সেনাল।

সেই আনন্দের রেশ থাকতেই গতকাল মঙ্গলবার রাতে আরেকটা ‘অসাধারণ’ রাত কাটিয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি। এমিরেটসে গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। তাতে দুই লেগে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্তেতার শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গতকালের রাতটিতে ‘অসাধারণ’ রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন আর্সেনাল কোচ আর্তেতা। অবশ্য সেটার যথেষ্ট কারণও আছে। ক্লাব ইতিহাসে মোটে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠল আর্সেনাল। এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমে ফাইনালে উঠলেও সেবার বার্সেলোনার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় লন্ডনের ক্লাবটির। ২০ বছর পর সেই আক্ষেপ পূরণের সুযোগ আরেকবার পেয়েছে দলটি।

আগামী ৩০ মে’র ফাইনালে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ হবে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ। আজ রাতে মিউনিখের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে নিশ্চিত হবে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ।

গতকালের ম্যাচের ফেরা যাক। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আর্সেনাল পেয়েছে প্রথমার্থের একেবারে শেষ মুহূর্তে। লেয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের শট ইয়ান অবলাক ঠেকিয়ে দিলেও সেটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আতলেতিকো গোলকিপার। ফিরতি বলে পা লাগিয়ে জালে বল জড়ান বুকায়ো সাকা। তাতে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালও নিশ্চিত হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ বলেছেন, ‘এটা একটা অসাধারণ রাত। আমরা আবারও ইতিহাস গড়েছি। ক্লাবের সঙ্গে সবার জন্য আমি ভীষণ গর্বিত ও আনন্দিত। স্টেডিয়ার বাইরে যে অভ্যর্থনা পেয়েছি, সেটা ছিল বিশেষ ও অনন্য।’

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আর্সেনাল কোচ বলেছেন, ‘সমর্থকেরা যে ধরনের পরিবেশ তৈরি করেছিল, আর তারা যে এনার্জি দেখিয়েছে, সেটা ছিল অবিশ্বাস্য। প্রতিটা মুহূর্তে তারা আমাদের সঙ্গে ছিল। এমন অভিজ্ঞতা আমি কখনো পাইনি। আমরা জানতাম, এটা সবার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। ২০ বছর পর আমরা আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ফিরেছি।’