পিএসজি গোল করতে জানে, গোল ঠেকাতেও জানে

প্রথম লেগে পিএসজি-বায়ার্ন মিউনিখের ৫-৪ ব্যবধানের গোলবন্যার ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই ফিরতি লেগে আরেকটা গোলবন্যার ম্যাচ দেখতে উন্মুখ ছিলেন ফুটবল প্রেমীরা। কিন্তু গতকাল বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ আরেনাতে বায়ার্ন-পিএসজি ফিরতি লেগের ম্যাচটা শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।

তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ ৬ মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল ফরাসি জায়ান্টরা। আর লিভারপুলের (২০১৮-১৯) পর পিএসজিই প্রথম ক্লাব, যারা চ্যাম্পিয়নস লিগে পরপর দুই মৌসুমে ফাইনালে উঠল।

ম্যাচে খুব বেশি গোল হলেও আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ কম হয়নি। দুদল মিলে গতকাল শট নিয়েছে ৩৩টি। দুদলেরই জমাট রক্ষণ, সেই সঙ্গে দুই গোলকিপারের দক্ষতায় জালে জড়িয়েছে মোট শটের ৬ শতাংশ!

গতকাল ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে যায় পিএসজি। তৃতীয় মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে ফাবিয়ান রুইসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন কাভারেস্খেলিয়া। দারুণ ক্ষিপ্রতায় পিএসজির ফরাসি ডিফেন্ডার উপামেকানোকে পেছনে ফেলে ক্রস করেন বক্সে। কাভারেস্খেলিয়ার বানিয়ে দেওয়া বলে ফিনিশিং দেন দেম্বেলে। পিএসজি এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে, দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান তখন ৬-৪!

এমন অবস্থায় ম্যাচের ফিরতেও অন্তত ২ গোল দরকার ছিল বায়ার্নের। কিন্তু আগের লেগে আক্রমণের ঢেউ তোলা পিএসজি এবার দেখাল রক্ষণের শক্তিমত্তা। নির্ধারিত সময়ে হ্যারি কেইন-লুইস দিয়াস-জামাল মুসিয়ালারা কয়েকবার চেষ্টা চালালেও পিএসজির রক্ষণ দুর্গ ভাঙতে পারল না।

বায়ার্ন অবশ্য সান্ত্বনা সূচক একটা গোল পেয়েছ। সেটা ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে। হ্যারি কেইনের ওই গোলে বায়ার্ন হার এড়ালেও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় এড়াতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ডিফেন্ডারদের। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সাধারণত রক্ষণ সামলাতে অভ্যস্ত নই, কিন্তু আজ আমরা দুর্দান্ত ডিফেন্ড করেছি।’

পিএসজি কোচ আরও বলেছেন, ‘আজ রাতে প্রমাণ করেছি দল হিসেবে আমরা কেমন। রক্ষণ আর আক্রমণ—দুদিকেই আমরা পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছি। কোচ হিসেবে এমন পারফরম্যান্স দেখা ছিল দারুণ এক অনুভূতি।’

আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে এনরিকের দল। শিরোপা নির্ধারণী ওই ম্যাচে মাঠের লড়াইটা ফরাসি ও ইংলিশ ক্লাবের মধ্যে হলেও ডাগআউটের লড়াইটা মূলত দুই স্প্যানিশের। লুইস এনরিকের মতো আর্সেনাল কোচ আর্তেতাও একজন স্প্যানিশ।

তাতে একটা ভিন্ন কীর্তির সাক্ষীও হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। ইউরোপ সেরার ফাইনালের ইতিহাসে, একই দেশের দুই কোচ থাকার ঘটনা এ নিয়ে মোটে চতুর্থবার দেখছে চ্যাম্পিয়নস লিগ।