ভুলে যাওয়ার মতো একটা মৌসুমের শেষ পর্যায়ে আছে রেয়াল মাদ্রিদ। একে তো শিরোপাহীন মৌসুম, তারওপর যোগ হয়েছে গৃহদাহ। ড্রেসিংরুমের সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আলভারো আরবেরোয়া।
বিতর্কটা কী নিয়ে? গতকাল রেয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচের পর এমবাপ্পে দাবি করেছেন, আরবেলোয়া তাঁকে রেয়াল মাদ্রিদের ‘চতুর্থ পছন্দের ফরোয়ার্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পরে সেই দাবি অস্বীকার করেছেন আরবেলোয়া।
তা এই বিতর্কটা শুরু হলো কীভাবে? এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে হারের পর গতকাল রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ওভিয়োদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল মাদ্রিদ। ২-০ ব্যবধানে জয়ের এ ম্যাচে এমবাপ্পেকে শুরুর একাদশে রাখেননি আরবেলোয়া। ফরাসি তারকা বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৬৯ মিনিটে।
শিরোপার আশা আগেই শেষ হওয়ায় গতকাল বের্নাবাউয়ের গ্যালারির বড় একটা অংশ খালি ছিল। যে সমর্থকেরা খেলা দেখতে হাজির হয়েছিলেন, তাঁদের বড় একটা অংশ এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে দুয়ো দেন।
সমর্থকদের দুয়ো নিয়ে ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘এটাই জীবন। মানুষ যখন ক্ষুব্ধ থাকে, তখন তাদের মন পাল্টানো কঠিন। আমি এটা ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছি না। রেয়াল মাদ্রিদের এখন হিসেবে, বিশেষ করে আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়ের জীবনে এটা মেনে নিতেই হবে।’
সমর্থকদের দুয়ো দেওয়ার যৌক্তিকতাও দেখেন ফরাসি তারকা, ‘সমর্থকেরা খুশি নয়। দুয়োধ্বনিতেই সেটা ভালোভাবে বোঝা যায়। আমরা মৌসুমটা ভালোভাবেই শুরু করেছিলাম। কিন্তু মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে গিয়ে সব হারিয়ে ফেলেছি। এটা খুব কষ্ট দেয়। আমার মনে হয় আমাদের একটা খেলার ধরন ও কাঠামো ছিল, কিন্তু আমরা সেটা হারিয়ে ফেলেছি।’
গতকালের ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে এরপর রীতিমতো বোমা ফাটান এমবাপ্পে, ‘আমি ভালো আছি, শতভাগ ফিট। আমি (শুরুর একাদশে) ছিলাম না, কারণ কোচ (আরবেলোয়া) আমাকে বলেছেন, “দলে আমি চতুর্থ পছন্দের ফরোয়ার্ড।” ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গনসালো গার্সিয়ার পর আমার অবস্থান। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু সময় পেয়েছি, খেলেছি। মনে হয় আমি ভালোই খেলেছি।’
এমবাপ্পের দাবি, তিনি শুরুর একাদশে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু কোচ তাঁকে প্রথম একাদশে রাখেননি। এ প্রসঙ্গে ফরাসি তারকা বলেছেন, ‘শুরুর একাদশে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কোচের ওপর আমার কোনো রাগ নেই। কোচের সিদ্ধান্তকে সবসময় সম্মান করতে হয়। আবার শুরুর একাদশে ফিরতে আমি কঠোর পরিশ্রম করব।’
কিছুক্ষণ পর আরবেলোয়ার সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পের এমন মন্তব্য নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রেয়াল মাদ্রিদ কোচ বলেছেন, ‘চারজন ফরোয়ার্ড থাকলে তো ভালোই হতো। বাস্তবে আমার চারজন ফরোয়ার্ড নেই, আর অবশ্যই আমি এমবাপ্পেকে এমন কিছু বলিনি। হয়তো সে আমাকে ভুল বুঝেছে। আমি আর কী বলব জানি না। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে বলিনি যে, ও চতুর্থ পছন্দের ফরোয়ার্ড।’
মাদ্রিদ কোচ যোগ করেন, ‘আমি কোচ। কে খেলবে, আর কে খেলবে না- সেটা আমিই ঠিক করি। ম্যাচের আগে ওর (এমবাপ্পের) সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। ও সেটাকে নিয়েছে, আমি জানি না। যে খেলোয়াড় চার দিন আগেও বেঞ্চে থাকার মতো অবস্থাতেও ছিল না, সে যে আজ শুরুর একাদশে থাকবে না,—এটাই স্বাভাবিক। এটা কোনো ফাইনাল ছিল না বা বাঁচা-মরার ম্যাচ ছিল না যে ওকে নামতেই হবে। ব্যাপারটা এমনই। কারও সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।’
আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘আপনারা চাইলে আমাকে কিলিয়ানের মন্তব্য দেখাতে পারেন, তারপর আমরা আলোচনা করতে পারি। সে ঠিক কী বলেছে, সেটা না শোনা পর্যন্ত আমি প্রতিটি বাক্যের জবাব দিতে চাই না। আর যতদিন আমি এই দায়িত্বে আছি, কে খেলবে আর কে খেলবে না- সেটা আমিই ঠিক করব। নাম (বড় তারকা) দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিই না।’