মূল ঘটনা গত সোমবারের। এল ক্লাসিকোতে রেয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করা বার্সেলোনা ছাদখেলা বাসে উদযাপন করেছিল সেদিন। বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ লোক। সেই উদযাপনে লামিন ইয়ামালের হাতে দেখা গেছে ফিলিস্তিনি পতাকা।
বিষয়টি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, ইয়ামালের ওভাবে পতাকা ওড়ানোর ঘটনা ‘ঘৃণা উসকে দেয়।’
তবে কাটজের এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস। ইয়ামালের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সানচেস মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন।
তা ইয়ামালের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় কাটস ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমাদের সেনারা যখন সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন লামিন ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইহুদি শিশু, নারী ও বয়স্কদের হত্যা, ধর্ষণ ও আগুনে পুড়িয়ে মেরেছিল।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যত সমালোচনাই করুক না কেন, সেসবে পাত্তাই দিচ্ছেন না ইয়ামাল। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট দিয়েছেন বার্সার এই স্প্যানিশ রাইট উইঙ্গার।
শুধু এবারই নয়, এর আগেও অনেক ঘটনায় সরাসরি ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন ইয়ামাল। অন্যদিকে স্পেন সরকার ও দেশটির জনগণের বড় একটা অংশ গাজায় হামলার প্রতিবাদে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছে অনেকবারই।
এবার ইয়ামালের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্পেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো মানেই ঘৃণা ছড়ানো বলে যারা মনে করে, তারা হয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন, নয়তো নিজেদের সংকীর্ণ মানসিকতায় অন্ধ হয়ে গেছেন।’
ইয়ামালের সমর্থনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘সে শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিটুকুই প্রকাশ করেছে, যা লাখো স্প্যানিশ নাগরিক অনুভব করেন।’