মেসি কি মানুষ, নাকি এলিয়েন?

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই পেনাল্টি শট নিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু আর্জেন্টাইন অধিনায়কের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। পেনাল্টি মিসের মধ্য দিয়ে মেসি যেন প্রমাণ করলেন, তিনিও রক্ত মাংসের মানুষ! তিনিও ভুল করেন!

খানিক বাদেই আবার ভিনগ্রহের বাসিন্দা হয়ে যান মেসি। জোড়া গোলে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। শুধু এ ম্যাচে নয়, আলজেরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচেও করেছেন হ্যাটট্রিক। পরপর দুই ম্যাচে ৫ গোল, মেসিকে দেখে বোঝার উপায় নেই- বয়স বাড়তে বাড়তে ৩৯ এর ঘরে পৌঁছেছে। যে বয়সে বুটজোড়া তুলে রেখে চিন্তাহীন এক জীবন কাটানোর কথা, সে বয়সেও একাই টানছেন পুরো দলের ভার। দলকে জেতানোর পাশাপাশি নিত্যনতুন রেকর্ডও নিজের করে নিচ্ছেন। তাতে পুরোনো প্রশ্নটা আবার উঠেছে নতুন করে- মেসি কি আসলেই মানুষ, নাকি এলিয়েন?

এই প্রশ্নটা অকারণ নয়। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে- যা কিছু জেতা সম্ভব, তার প্রায় সবটাই জিতেছেন—ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ, ব্যক্তিগত ট্রফি থেকে দলীয় সাফল্য— অর্জনের খাতায় বাদ নেই কিছুই। তবুও যে মেসির থামার কোনো নামগন্ধ নেই! বয়স ঠিকই বাড়ছে, কিন্তু আগের মতোই গোল করার সেই ক্ষুধা কমছে না। ধার কমছে না পারফরম্যান্সেরও।

বিশ্বকাপে মেসির পরিসংখ্যানও এখন ইতিহাসের অংশ। টানা ম্যাচে গোল করা, সর্বাধিক ম্যাচে দলের প্রথম গোল করা, সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ গোলের মালিক— সব রেকর্ডই যোগ হয়েছে মেসির নামের পাশে। এমনকি ৩৫ বছরে পা দেওয়ার পর বিশ্বকাপে মেসি যত গোল করেছেন, অনেক কিংবদন্তি পুরো বিশ্বকাপ খেলেও তা করতে পারেননি।

ম্যাচ জেতাতে মেসির খুব বেশি সুযোগের প্রয়োজন হয় না। হাতে গোনা- দুয়েকটি মুহূর্তই যথেষ্ট। তাতেই বদলে যায় পুরো ম্যাচের রং। প্রতিপক্ষ সবটা জানে, কী করবেন মেসি, কীভাবে করবেন। দিনের পর দিন মেসিকে ঠেকানোর ছক সাজান। কিন্তু সব কৌশল মুহূর্তের ঝলকেই চুরমার করেন মেসি।

তাই প্রশ্নটা বারবার ঘুরে ফিরে আসে- এটা কি শুধুই প্রতিভা, নাকি এর পেছনে আছে অন্য কিছু। রক্ত মাংসের একজন মানুষের পক্ষে বছরের পর বছর একই ভঙ্গিতে খেলে যাওয়া কীভাবে সম্ভব?

প্রশ্নের একটা উত্তর দিয়েছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। সুইডিশ সাবেক কিংবদন্তির মতে, মেসি যে অন্য গ্রহের, এটা নিয়ে কখনোই তার সন্দেহ ছিল না। কিন্তু মাঝে মধ্যে পেনাল্টি মিস করে বলেই হয়তো মেসিকে তাঁর মানুষ মনে হয়।