এবারের বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ইরানকে কম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত ঘিরে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিলেও একের পর এক বিপত্তিতে পড়ছে দলটি।
শুরুতে ভিসা জটিলতা, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্প করার অনুমতি না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো তো ছিলই। এবার ইরানের ফুটবল দলের অধিনায়ক মেহেদী তারিমকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া অভিযোগ উঠেছে। ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের অভিযোগ, মিসরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিজুয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধিনায়ক মেহেদী তারেমি ও সহকারী কোচ সাঈদ আল হোইকে আটকে রাখা হয়। এতে ম্যাচ খেলতে দলের সিয়াটলে যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারেমি ও সহকারী কোচকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফেডারেশন আরও জানায়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অধিনায়ক ও সহকারী কোচকে ছাড়াই দলের বাকি সদস্যদের যাত্রা করতে বলেছিল। তবে দলের বাকিরা ওই দুজনকে ছাড়া সিয়াটলের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তারা বিমানবন্দরের টার্মিনালেই অবস্থান করেন।
অথচ এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ ইরানকে আশ্বাস দিয়েছিল, কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই ইরান ফুটবল দলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
সে কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশন এ ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘ইচ্ছাকৃত হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফেডারেশনের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন আরও অভিযোগ করেছে, শুধু এবারই নয়, এর আগে গ্রুপপর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর মেক্সিকোতে ফেরার পথে লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দরেও পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাইয়ের অজুহাতে তারেমি ও আল-হোইকে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়েছিল।
ইরানের ফেডারেশনের মতে, টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বারবার এ ধরনের বিলম্ব দলের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, আগামীকাল শনিবার সকালে গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান। নকআউটের টিকিট পেতে এ ম্যাচটি ইরানের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে জি গ্রুপের দুইয়ে আছে ইরানিরা।