বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে আপনার দল ১-০ যদি গোলে এগিয়ে থাকে, আপনি কি তখনও নিশ্চিন্তে থাকবেন, নাকি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভাববেন, ‘ম্যাচের আর কত মিনিট বাকি?’
কারণ, ফুটবল ইতিহাস জানাচ্ছে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারানোর সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হলো— যখন আপনি ভাবতে শুরু করেন, ওরা হেরে গেছে। জাপানও হয়তো সেটাই ভেবেছিল। প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে দেখে মনে হয়েছিল, এ দলটা যেন নিজেদেরই চিনতে পারছে না। চোখে লাগার মতো বেশ কিছু ভুল, ছন্দহীন পাস, খেলোয়াড়েরা নিজেদের সঙ্গেই ধাক্কা খাচ্ছে- এ কোন ব্রাজিল!
তারপর ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোল। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে প্রশ্নটা তখন জোরেসোরেই উঠেছে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কি সত্যিই বিদায়ের পথে? অনেকে হয়তো বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ও দেখে ফেলেছিলেন।
কিন্তু এখানেই অন্যদলগুলোর সঙ্গে ব্রাজিলের পার্থক্য। কারণ, ব্রাজিল শুধু ফুটবল খেলে না, লাতিন আমেরিকার দেশটি মূলত বিশ্বকাপ খেলে!
কার্লো আনচেলত্তির মাস্টারস্টোকে দ্বিতীয়ার্ধে দেখা মিলল ভিন্ন ব্রাজিলের। আক্রমণের গতি বাড়ল। চাপও বাড়ল জাপানের ওপর। জাপান ধীরে ধীরে নিজেদের অর্ধে বন্দি হয়ে গেল। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেড। স্কোরলাইন তখন ১-১। এই গোলটার পরই ম্যাচের চেহারা বদলে গেল।
জাপান তখন আর জয়ের জন্য খেলছিল না, খেলছিল বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু ব্রাজিল? ওরা তখনও বিশ্বাস করছিল, এই ম্যাচ তাদেরই। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের খেলা চলছে। আর মাত্র কয়েক মিনিট। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাবে, এটাই ধরে নিয়েছিল সবাই।
ঠিক তখনই, ব্রুনো গিমারায়েস বলটা বাড়ালেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দিকে। প্রথম স্পর্শে রিসিভ করে, দ্বিতীয় স্পর্শে দারুণ ফিনিশিং দিলেন মার্তিনেল্লি। তাতে পুরো স্টেডিয়াম বিস্ফোরিত। ব্রাজিল জিতে গেল ২-১ গোলে, উঠে গেল শেষ ষোলোতে।
ব্রাজিল শুধু শেষ ষোলোতেই ওঠেনি, আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন বিশ্বকাপে ব্রাজিল কেন সবার চেয়ে আলাদা!
ব্রাজিলের শক্তি শুধু আনচেলত্তি কিংবা ভিনিসিয়ুসরা নন, মনে রাখতে হবে, ব্রাজিল কখনো বিশ্বাস হারায় না। আর প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় ভুল, সময় শেষ হওয়ার আগেই ব্রাজিলের শেষ ভেবে নেওয়া!