‘ব্রাজিল আর আগের মতো ভয়ংকর দল নয়, ইদানিং ব্রাজিলের নামডাক তেমনটা শোনা যায় না’- ম্যাচের আগের দিন এভাবেই বলেছিলেন জাপান স্ট্রাইকার কেন্টো শিওগাই। কিন্তু ব্রাজিল জবাবটা মুখে দেয়নি। দিয়েছে মাঠের খেলায়। হিউস্টনে ৯০ মিনিট পরে জাপান বুঝেছে, অহংকারী কথাবার্তা বলাটা কত বড় ভুল ছিল!
শিওগাই যখন ব্রাজিলকে নিয়ে ওমন মন্তব্য করেছিলেন, ফুটবল দুনিয়ায় কেউ কেউ সেটা শুনে হেসেছিল, কেউ কেউ এটাকে সাধারণ মন্তব্য ভেবেছিল! কিন্তু ব্রাজিল ছিল চুপচাপ। মার্কিনিওস শুধু এক লাইনে জবাব দিয়েছিলেন, ‘ওরা যত কথা বলবে, আমরা মাঠে তত জোরে খেলব।’
ম্যাচ শুরু হতেই বোঝা গেল, ব্রাজিল জবাব দেওয়ার জন্যই লড়ছে। জাপান অবশ্য শুরুতে টেক্কা দিচ্ছিল। ব্রাজিলের মাথার ওপর চাপ বাড়ছিল। তাতে ভুল পাস, কিছুটা ছন্দহীন শুরু ছিল ব্রাজিলের। এর মধ্যে ২৯ মিনিটে গোল হজম করে বসে ব্রাজিল। জাপান এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। ব্রাজিল সমর্থকেরা যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। আর একটা প্রশ্নটা ঘুরতে থাকল— ‘ব্রাজিল কি সত্যিই আর আগের ব্রাজিল নেই?’
কিন্তু এই প্রশ্নটাই ব্রাজিলকে জাগিয়ে দিল। দ্বিতয়ার্ধে পুরোপুরি বদলে গেল ব্রাজিল। কৌশল বদলালেন কার্লো আনচেলত্তি। তাতে পিছু হটল জাপান। বাতাসের হাওয়াও বদলে গেল। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফিরল ব্রাজিল। কিন্তু আক্রমণ চালালেও আর গোল হচ্ছে না। নির্ধারিত সময় শেষ। যোগ করা সময়ের খেলা চলছে। সবাই ধরে নিয়েছে, ম্যাচ ড্র।
কিন্তু ব্রাজিলের গল্প কখনো মাঝপথে থামে না। যোগ করা সময়ে রায়ান বল পেয়ে গিমারায়েসকে দিলেন। সেখান থেকে বল গেল মার্তিনেল্লির দিকে। বল রিসিভ করে দ্বিতীয় স্পর্শে জালে পাঠালেন মার্তিনেল্লি। ২-১ গোলে এগিয়ে গেল ব্রাজিল। স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল উচ্ছ্বাসে। আর জাপান বুঝে গেল—ব্রাজিলকে কথা দিয়ে ছোট করা যায়, কিন্তু শেষ করা যায় না।
এই ম্যাচে ব্রাজিল শুধু জেতেনি, একটা কথার জবাব দিয়েছে। আর সেই জবাবটা ছিল খুব সোজা—ব্রাজিলকে শুধু কথা দিয়ে হারানো যায় না, ব্রাজিল নেইমার ছাড়াও জিততে জানে।



