ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, সঙ্গে বাবাকেও হারালেন কঙ্গোর কোচ

এতটা দুঃসময় হয়তো আর আসেনি ডিআর কঙ্গো কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাবারের জীবনে। পারলে হয়তো গতকাল বুধবারের দিনটা জীবনের ডায়েরি থেকে মুছে ফেলতে চাইবেন তিনি!

একদিকে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব থার্টি টু-তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেইনের গোলে হেরে বিদায় নেয় কঙ্গো। সেই দুঃখের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে দেসাবারের। ম্যাচ শেষের পর সংবাদ সম্মেলনে ডিআর কঙ্গোর ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া ম্যানেজার জানিয়ে দেন, বাবাকে হারিয়েছেন ডিআর কঙ্গো কোচ।

ওই সংবাদ সম্মেলনের আগ পর্যন্ত দেসাবার তাঁর বাবার সংবাদ পেয়েছিলেন কি না, সেটি নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। কিন্তু যখন দলটির মিডিয়া ম্যানেজার তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানান, সে সময় দেসাবারকে বেশ হতবাক মনে হচ্ছিল!

কঙ্গোর মিডিয়া ম্যানেজার বলেন, ‘ধন্যবাদ। তবে আপনাদের জানাচ্ছি আমাদের কোচ তাঁর বাবাকে হারিয়েছন। তাঁর প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইলো।’ এমন খবরে দেসাবারো কিছু চমকে যান। কিছুটা সময় চুপচাপ থেকে ধন্যবাদ বলে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন তিনি।

অথচ এই বিশ্বকাপটা কঙ্গোর জন্য ছিল ইতিহাস লেখার। ১৯৭৪ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল কঙ্গো। পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার সঙ্গে একই গ্রুপে থেকেও নকআউট নিশ্চিত করে দেসাবারোর দল।

গতকাল শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৭ মিনিটে এগিয়েও গিয়েছিল। দলটি লিড ধরে রেখেছিল ৭৪ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে স্বপ্নযাত্রা থেমে যায় কঙ্গোর।

এদিকে বাবার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের শিষ্যদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে দেসাবার বলেছেন, ‘আমরা ভীষণ হতাশ। আমাদের বিশ্বাস ছিল, পরের রাউন্ডে যেতে পারব। শেষ দিকে আমাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। কিন্তু দিন শেষে এটাই ফুটবল। আমরা শিখি, উন্নতি করি এবং এভাবেই এগিয়ে যাই।’