ব্রাজিলের ফ্যানরা এখন আরামে ঘুমাচ্ছেন। কারণ, ডন কার্লো আনচেলত্তি জাপানের সব তালা ভেঙে ব্রাজিলকে রাউন্ড অব ১৬-এ তুলে দিয়েছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা কি ঘুমাতে পারছেন? তাঁদের ঘুম হারাম হতেই পারে, কারণ সামনে এমন একটা দল দাঁড়িয়ে আছে—যাদের নাম শুনে অনেকেই এখনও গুগলে সার্চ দিচ্ছেন! কেপ ভার্দে! হ্যাঁ, যে দলকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউ পাত্তাই দেয়নি, সেই দলই এখন পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।
স্পেনের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ক্লিন শিট, সৌদি আরবের বিপক্ষেও গোল হজম করেনি, আর তিন ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়েই ইতিহাস গড়ে নকআউটে উঠে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো—এই কেপ ভার্দে যদি আর্জেন্টিনার সামনে দাঁড়ায়, তাহলে কী হবে?
সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম—৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনিয়া। লোকটার বয়স শুনে মনে হবে এখন কোচিং করানোর কথা। কিন্তু বিশ্বকাপে তিনি এমন গোলকিপিং করছেন, যেন বলের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে! স্পেনের তারকারা পারেননি, সৌদি আরব পারেনি; এখন টার্গেট—লিওনেল মেসি!
মজার ব্যাপার কী জানেন? বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই দলটার কথা কেউ জানতই না। এখন? পুরো বিশ্বই তাদের খেলোয়াড়দের বাহবা দিচ্ছে। কেপ ভার্দের কোচ তো একদম বুক ফুলিয়ে বলেছেন, "অসম্ভব বলে কিছু নেই!" তাদের খেলোয়াড়দেরও একই কথা। অর্থাৎ তারা মাঠে নামছে হারতে নয়, ইতিহাস লিখতে।
এদিকে আর্জেন্টিনার জন্য বিপদ আরও বেশি। যত ছোট দল, তত বেশি ডিফেন্স! পুরো ম্যাচে ১০-১১ জন নিয়ে নিজেদের বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে... তারপর একটা কাউন্টার... আর তখন আর্জেন্টিনা ফ্যানদের হার্টবিট বেড়ে হয়ে যাবে ২০০!
ব্রাজিল অন্তত পিছিয়ে পড়েও ফিরে এসেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা যদি আগে গোল খেয়ে বসে? তাহলে? মেসির ম্যাজিক, নাকি কেপ ভার্দের ইতিহাস? আরেকটা ব্যাপার কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না। এই বিশ্বকাপে বড় বড় দলগুলোও হোঁচট খাচ্ছে। জার্মানি প্যারাগুয়ের সঙ্গে হেরে বিদায় নিয়েছে, আর মরক্কো রাউন্ড অব ১৬-এ উঠেছে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে। এর মানে ছোট ছোট দলগুলো সবাই দাঁতে দাঁত চেপে খেলছে। তাই কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য একটা সুখবরও আছে। কাগজে-কলমে অভিজ্ঞতা, তারকা আর মানের দিক থেকে এখনও আর্জেন্টিনাই এগিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে কাগজে লেখা হিসাব অনেক সময় মাঠে কাজ করে না। একটা ভুল, একটা কাউন্টার, একটা সেভ—আর পুরো টুর্নামেন্ট বদলে যেতে পারে। তাই ব্রাজিল তো কোনোভাবে বেঁচে গেল। এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনাও কি নকআউটের এই ফাঁদ পার হতে পারে, নাকি কেপ ভার্দেই লিখবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের নতুন অধ্যায়!



