আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ২০ বছর জেলের মুখে কেপ ভার্দে অধিনায়ক!

একদিকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ, অন্যদিকে মাথার ওপর ঝুলছে ২০ বছরের কারাদণ্ডের আশঙ্কা! অবিশ্বাস্য হলেও, ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন কেপ ভার্দের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস।

বিশ্বকাপে রাউন্ড অব থার্টি টু-তে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পুরো দেশ অপেক্ষা করছে ইতিহাস গড়ার। কিন্তু সেই লড়াইয়ে নামার আগে কেপ ভার্দের অধিনায়কের বিরুদ্ধে এমন এক অভিযোগ উঠেছে, যা প্রমাণিত হলে ক্যারিয়ার তো শেষ হবেই, জীবনের বড় একটা সময় কেটে যেতে পারে কারাগারে।

রায়ান মেন্দেসের ক্যারিয়ার থামিয়ে দেওয়ার মতো সেই অভিযোগটা করেছেন এক ব্রাজিলিয়ান। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী? কেন বিশ্বকাপের ঠিক মাঝপথে পুরো ঘটনায় নজর রাখতে হচ্ছে ফিফাকেও?

ঘটনাটি গত মার্চ মাসের। নিউজিল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েছিল কেপ ভার্দে। দলের ভাষাগত সহায়তার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় এক ব্রাজিলিয়ান নারী দোভাষীকে। সেখান থেকেই শুরু হয় এই বিতর্ক। ওই নারীর অভিযোগ, পেশাগত কাজের কথা বলে তাঁকে দলের হোটেলের একটি কক্ষে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়।

পরে শরীর খারাপ লাগায় তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রায়ান মেন্দেস জোর করে তাঁর কক্ষে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর তিনি প্রথমে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সাহায্য চান। সেখান থেকে কোনো সাড়া পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। গত ১০ এপ্রিল অকল্যান্ড আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি ফিফাকেও জানায়। এখন তদন্ত চলছে।

নিউজিল্যান্ডের আইন বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে রায়ান মেন্দেসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এটি এখনো একটি অভিযোগের পর্যায়ে আছে। মেন্দেস, তাঁর আইনজীবী কিংবা কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন— এখন পর্যন্ত কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবুও প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, যে ফুটবলারের মাথায় একই সঙ্গে বিশ্বকাপ আর আদালতের চাপ, তিনি কি আদৌ নিজের সেরাটা দিতে পারবে? নাকি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার আগেই, তাঁর জীবনের গল্প অন্য এক মোড় নিতে শুরু করেছে?