একটা ফাউল, এরপর লালকার্ড। তাতে প্রশ্নটা উঠল জোরেসোরেই, নিয়ম কি সবার জন্য এক? নাকি কিছু নামের জন্য আলাদা? সান ফ্রান্সিসকোর মাঠে যা ঘটেছে, সেটা শুধু একটা ম্যাচের ঘটনা নয়, এটা যেন নতুন এক বিতর্কের বিস্ফোরণ, ফিফা কি তবে মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে?
ঘটনার প্রেক্ষাপটে যাওয়া যাক। শেষ ৩২ এর ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচে সব ঠিকঠাকই চলছিল। তবে ৬৪ মিনিটে এক ট্যাকলে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান।
রেফারি শুরুতে কিছুই দেখেননি। খেলা চলেছে। বসনিয়ার একজন ফুটবলার মাঠেই পড়ে ছিলেন। পরে ভিএআর যাচাইয়ে সিদ্ধানত্ বদলে বালোগানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এমন সিদ্ধান্তে যেন স্টেডিয়ামেও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে। কমেন্ট্রি বক্সেও ধারাভাষ্যকাররা বিস্ময় প্রকাশ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নটা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে, ‘এটা কি আসলেই লাল কার্ড ছিল?’
এই ঘটনার আগুনে আরও তেল ঢালে এক পুরোনো স্মৃতি, আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে আলজেরিয়া ডিফেন্ডার মান্দির ওপর প্রায় একই ধরনের ট্যাকল করেছিলেন মেসি। মেসির বুটের তলা উঠে গিয়েছিল মান্দির পায়ের পেছনের অংশে। আলজেরিয়ার ফুটবলাররা সে সময় লাল কার্ডের আবেদন করেছিলেন বটে। কিন্তু রেফারি সাইমন মার্সিনিয়াক শুধু ফাউলই দিয়েছিলেন। মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি।
বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগানের ট্যাকলটাও ছিল প্রায় একইরকম। সে কারণেই এই দুই ঘটনার তুলনা বিশ্বকাপে যেন নতুন আগুন জ্বালিয়েছে। বিবিসির কমেন্ট্রিতে রিও ফার্ডিনান্ড বলেছেন, ‘সবাই একই নিয়ম দেখতে চায়। কিন্তু এখানে সেটাই হচ্ছে না।’ সু স্মিথ বলেছেন, ‘ফ্রেমে থামিয়ে দেখলে এটা লাল কার্ড মনে হয়, কিন্তু স্বাভাবিক গতিতে? সিদ্ধান্তটা কঠিন।’ মেসির ক্ষেত্রে এক নিয়ম, অন্যদের বেলায় আলাদা- সেটার জন্য রেফারিদের ওপর দায় চাপিয়ে ক্লিন্ট ডেম্বসি বলেছেন, ‘ম্যাচে এখন রেফারিদের নিয়ে বেশি আলোচনা হয়, খেলা নিয়ে কম।’
প্রশ্ন আসছে কোচদের দিক থেকেও। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর দাবি, বালোগানোর ট্যাকল লাল কার্ড দেখানোর মতো ছিল না। মেসির সেই ঘটনা টেনে পচেত্তিনো বলেন, ‘দুটোর কোনোটাই লাল কার্ড দেখানোর মতো কিছু ছিল না।’
পচেত্তিনো যা-ই দাবি করুক না কেন, ফুটবল দুনিয়া এখন আর শুধু এসব কথাতে আটকে নেই। প্রশ্নটা বড় হয়েই উঠেছে। যদি একই অপরাধে এক জন লাল কার্ড দেখেন, আরেকজন শুধু ফাউলেই বেঁচে যান, তাহলে কি সত্যিই নিয়ম সবার জন্য এক? নাকি মেসির মতো তারকা খেলোয়াড়দের বেলায় নিয়ম আলাদা হয়ে যায়? গোলের লড়াই থেকে বিশ্বকাপ কি তবে নিয়ম বনাম নামের লড়াই হয়ে উঠেছে?



