‘ইউরোপের ভূত’ এবার তাড়াতে পারবে ব্রাজিল?

আজ রাতে হতে যাওয়া ব্রাজিল-নরওয়ের শেষ ষোলোর ম্যাচটা কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়। এটা এমন এক লড়াই, যেখানে একদিকে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন- হেক্সা মিশন, অন্যদিকে নরওয়ের আলোচিত ‘ভাইকিংস উদযাপন’। কিন্তু এ দুটোর যেকোনো একটি থেমে যাবে আজ। প্রশ্ন হলো- নিউজার্সিতে আজ কোনটি থামবে, হেক্সা মিশনের যাত্রা, নাকি ভাইকিংস উদযাপন?

শুরুটা ব্রাজিলকে দিয়েই করা যাক। প্রতিপক্ষ নরওয়ে হলেও আজ ব্রাজিলের সামনে অপেক্ষা করছে অন্য এক জুজু- যেটাকে সবাই বলে ‘ইউরোপিয়ান ভূত।’ ২০০২ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০০৬ সাল থেকে ইউরোপিয়ান ভূতের পাল্লায় পড়ে ব্রাজিলের বাড়ি ফেরার শুরু। প্রতিবার ব্রাজিল এগিয়েছে, আর প্রতিবারই থেমে গেছে ইউরোপের দেয়ালে। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া— একেকটা দল যেন হয়ে উঠেছে ব্রাজিলের ‘হেক্সা স্বপ্নের শেষ স্টেশন।”

এবারও দৃশ্যপট অনেকটা একই। নকআউটের মঞ্চ, আর সামনে নরওয়ে। যে নরওয়ে বিশ্বকাপে কখনও শেষ ষোলো পেরোয়নি, তবুও ব্রাজিলের জন্য তারা এখন শুধু ‘আন্ডারডগ’ না, একটা অজানা বিপদের মতো।

কিন্তু এবারের ব্রাজিল অনেকটাই আলাদা। কোচ কার্লো আনচেলত্তি গড়েছেন এক নতুন দল— যেখানে আক্রমণ আর রক্ষণ- এ দুটো বড় অস্ত্র ব্রাজিলের। আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভিনিসিয়ুস-কুনিয়ারা, যাদের চোখে স্বপ্ন একটাই, পুরোনো ভুত এবার শেষ করতে হবে।

কিন্তু গল্পটা শুধু আক্রমণের না। রক্ষণেও এবার শক্ত ভিত। গাব্রিয়েল মাগালহায়েস-মার্কিনিওসরা দাঁড়িয়ে আছেন দেয়াল হয়ে, যেন সামনে আসা সব ঝড় থামানোর শেষ লাইন। তবে কিছুটা টানাপোড়েন আছে মধ্যমাঠ নিয়ে। লুকাস পাকেতা ছিটকে গেছেন চোটে। কাসেমিরোর ফর্ম নিয়েও চলছিল সমালোচনা। যদিও জাপানের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছেন কাসেমিরো।

এরপরও ব্রাজিলের সামনে অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর নাম- আর্লিং হলান্ড। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির এক গোল মেশিন। যে এক মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে ম্যাচের গল্প। আক্রমণভাগে হলান্ডের সঙ্গী হিসেবে আছেন আলেক্সান্দার সরলথ। নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেনও জানেন, এটাই তাদের ইতিহাস লেখার সুযোগ।

ইতিহাস আবার কথা বলছে নরওয়ের হয়েই। এ পর্যন্ত চারবারের মুখোমুখি দেখায় কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। দুবার নরওয়ে জিতেছে, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে দুদল মুখোমুখি হয়েছিল একবার, সেবারও নরওয়ে জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

এবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি ২৮ বছর পর প্রতিশোধ নেবে ব্রাজিল? ব্রাজিল অবশ্য ভালো করেই জানে। এই ম্যাচ শুধু শক্তির লড়াই না, খেলতে হবে মাথা দিয়েও। আর সেজন্য ব্রাজিলের ডাগআউটে আছেন ডনকার্লো নামের এক মাস্টারমাইন্ড।

কিন্তু এরপরও ম্যাচটা যখন বাঁচা-মরার, ঘুরে ফিরে আসছে পুরোনো প্রশ্নটাই- হেক্সা মিশনের পথটা কি ছোট হয়ে আসবে? নাকি ইউরোপিয়ান ভূত আবারও দরজাটা বন্ধ করে দেবে? ব্রাজিল কি পারবে? নাকি ভাইকিংসরা তাদের উদযাপনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে? উত্তর মিলবে, আজ রাতেই।