প্যারাগুয়ে নেতিবাচক ও মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসী ফুটবল খেলায় ফ্রান্সও একই ধরনের কৌশল বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। জার্মানিকে যে ছকে বিদায় করেছিল প্যারাগুয়ে, এবার ফরাসিদের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি। পেনাল্টি গোলে জয় পেয়ে ফ্রান্সের শেষ আট নিশ্চিত হওয়ায় খুশি সমর্থকেরা।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সের মতো দলকে পেনাল্টি গোলের ওপর ভর করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তবে ফরাসি শিবিরের দাবি, প্যারাগুয়ে নিজেরা যেমন ফুটবলীয় সৌন্দর্যের বাইরে গিয়ে খেলেছে, তেমনি ফ্রান্সকেও তাদের চেনা ছন্দ থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য করেছে।
ফুটবলীয় নৈপুণ্য ছাপিয়ে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচজুড়ে দেখা গেছে শারীরিক শক্তিমত্তার মহড়া, একের পর এক ফাউল, বাজে ট্যাকল ও খেলোয়াড়দের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। এমবাপ্পের মতে, প্যারাগুয়ে মাঠে স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে চায়নি, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরাসিদেরও আগ্রাসী পথ বেছে নিতে হয়েছে।
ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, ‘প্যারাগুয়ে আসলে ফুটবল খেলতে চায়নি, তারা মাঠে কেবল আগ্রাসন দেখাতে চেয়েছে। প্রয়োজন পড়লে আমরাও যে শক্ত অবস্থান নিতে জানি, সেটা তাদের দেখাতে হয়েছে। তারা আমাদের মানসিকভাবে অস্থির করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু উল্টো আমরাই তাদের মনোযোগ নষ্ট করে দিয়েছি।’
জার্মানির পর ফ্রান্সের বিপক্ষেও প্যারাগুয়ের এমন শরীরনির্ভর ও নেতিবাচক ফুটবল কৌশলের তীব্র সমালোচনা করছেন সাবেক ফুটবলাররা। সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতে, ‘এই ম্যাচে অন্তত ৪ থেকে ৫টি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল।’ অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট মনে করেন, এমন ফুটবল খেলে মাঠের অসম্মান করেছে প্যারাগুয়ে।
সমালোচনার ঝড় থাকলেও সমর্থকদের কাছে জয়টাই শেষ কথা। নিজেদের প্রিয় দলকে শেষ আটে দেখতে পেয়ে প্যারিসের রাস্তায় উল্লাসে ফেটে পড়েন ফরাসি সমর্থকেরা।
চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো কিংবা সেনেগালের মতো দল বিদায় নিয়েও যেখানে দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছে; সেখানে জার্মানির মতো পরাশক্তিকে বিদায় করার পরও মাঠের নেতিবাচক আচরণের কারণে ফুটবলপ্রেমীদের মন জিততে পারল না প্যারাগুয়ে।



