কলম্বিয়া বাধা পেরিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। আগের দুবার চেষ্টা চালালেও শেষ আট থেকে বিদায় নিয়েছে ইউরোপের দেশটি। প্রথমবার সেমিফাইনালে ওঠার পথে সুইজারল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। পেরোতে হবে আর্জেন্টিনা বাধা।
কিন্তু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। চোটের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা হবে না এবারের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সেরা তারকা ইয়োহান মানজাম্বির। দলটির কোচ মুরাত ইয়াকিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাঁটুর চোটের কারণে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও খেলতে পারেননি মানজাম্বি। সেই চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও খেলা হচ্ছে না তাঁর।
মেসিদের বিপক্ষে ম্যাচে মানজাম্বিকে না পাওয়া সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগের জন্য বড় ধাক্কা। এবারের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সাফল্যে বড় অবদান ২০ বছর বয়সী এ তারকার।
এখন পর্যন্ত ২০০ মিনিট মাঠে ছিলেন মানজাম্বি। এ সময় ৩ গোল করার পাশাপাশি আরও ২ গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন মানজাম্বি। তাঁর উপস্থিতিতে সুইজারল্যান্ড প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৩.৬ গোল করেছে, আর প্রত্যাশিত গোলের (xG) গড় ছিল ২.২। অন্যদিকে, মানজাম্বিকে ছাড়া ২৮০ মিনিটে সুইজারল্যান্ড মাত্র ১টি গোল করেছে। এই সময়ে তাদের প্রতি ৯০ মিনিটে প্রত্যাশিত গোলের গড় (xG) নেমে এসেছে ১.৪-এ।
আর্জেন্টিনা ম্যাচে মানজাম্বিকে না পাওয়া প্রসঙ্গে ইয়াকিন বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইয়োহান মানজাম্বির চোট আমাদের জন্য বিশাল ক্ষতি। এটা আমাদের জন্য সত্যিই বড় ধাক্কা। ও দুর্দান্ত ছন্দে ছিল। মাঠে খেলাটা ও কতটা উপভোগ করছিল, সেটা যেমন বোঝা যাচ্ছিল, তেমনি সতীর্থরাও ওর পারফরম্যান্সে দারুণ সাড়া দিচ্ছিল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাদের দল যেভাবে খেলছিল, সেটাও স্পষ্ট ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে (আর্জেন্টিনার বিপক্ষ ম্যাচে) ও খেলতে পারবে না।’
সুইজারল্যান্ড কোচ যোগ করেন, ‘এটা খুবই কষ্টের। তবে দল হিসেবে আমরা এই ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
এখন পর্যন্ত সাতবারের মুখোমুখি দেখায় আর্জেন্টিনাকে কখনো হারাতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পর এই প্রথম আবার বিশ্বকাপে দেখা হচ্ছে দুই দলের। সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ১১৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির বাড়ানো বলে গোল করেছিলেন আনহেল দি মারিয়া। সেই ম্যাচে খেলা বর্তমান সুইস অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকা এবং ডিফেন্ডার রিকার্দো রদ্রিগেস এবারও দলে আছেন।
জাকা বলেছেন, ‘১২ বছর পর আমরা আবার এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি— রিকি (রিকার্দো রদ্রিগেস) ও আমি। তবে এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সুইজারল্যান্ড। আমাদের মানসিকতা বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে। সুইস ফুটবলও অনেক উন্নতি করেছে।’