৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের আরেকটি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে হতাশা দিয়ে। ২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে সর্বশেষ শিরোপা জেতার পর সেলেসাওরা আর বিশ্বমঞ্চের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি। এবার কার্লো আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, নেইমার ও মার্কিনিওসদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল দলকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আন্ডারডগ নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এই বিপর্যয় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু না বললেও, অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
তারকার ঠাসা দল আর ডাগআউটে আনচেলত্তির মতো সফল কোচের উপস্থিতির কারণে ব্রাজিল এবার অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই বিশ্বকাপে এসেছিল। ভিনিসিয়ুস তাঁর বিবৃতিতে স্বীকার করেছেন, এই বড় ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে এবং নিজের চিন্তাভাবনাকে গুছিয়ে নিতে তাঁর কয়েকটা দিন সময় লেগেছে। তবে এই মুহূর্তে নীরব থাকাটা ভক্তদের প্রতি অন্যায় হতো বলে মনে করেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা উইঙ্গার তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘প্রায় চার বছর পর, বিশ্বকাপের আরও একটি হতাশার পর আবারও কী লিখব তা ভাবছি। সব বয়সের এত মানুষকে আমাদের সমর্থন করতে দেখেছি, আমাদের স্বপ্নকে আগলে রাখতে দেখেছি যে, এখন চুপ করে থাকাটা অন্যায় হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে আত্মোপলব্ধির জন্য আমার কয়েকটা দিন সময় দরকার ছিল। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। আর শেষ ষোলো থেকে এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
বিপর্যস্ত এই স্বপ্ন কাটিয়ে এখন সবার চোখ ২০৩০ বিশ্বকাপের দিকে। ব্রাজিলের হয়ে হেক্সা জয়ের স্বপ্নপূরণে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ভিনিসিয়ুস।
ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি কতটা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কতটা মনোযোগী ছিলাম এবং আপনাদের ও আমার পরিবারের জন্য এটি কতটা চেয়েছিলাম। এই হতাশার অনুভূতি প্রচণ্ড। আমাদের দলটি আরও অনেক দূর যাওয়ার মতো শক্তিশালী ছিল, কিন্তু আমরা তা পারিনি। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে ফেরার যে স্বপ্ন আমাদের, তা সত্যি করতে আমি লড়াই চালিয়ে যাব।’