রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে, টানা দ্বিতীয়বার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় পায় আকাশি-নীলরা। দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন লিওনেল মেসি। নিউজার্সিতে শিরোপা লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন।  

 'দ্য লিটল বয় ফ্রম রোজারিও' যার স্বপ্নের উচ্চতা আকাশ সমান। সেই লিওনেল মেসির স্বপ্নই তো ছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছোঁয়ার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ফুটবল ঈশ্বরের সমান্তরালে দাঁড়িয়ে গেলেন মেসি ও তার আর্জেন্টিনা। 

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করার প্রয়াসে সফল আলবিসেলেস্তে। তবে মেসি নিজেও নিশ্চয়ই ভাবেননি এমন নিখুঁত পুনরাবৃত্তি লিখে রেখেছেন বিধাতা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মতোই ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ছিটকে দিল আর্জেন্টিনা। সেবার ম্যারাডোনা ছিলেন সর্বেসর্বা। জয়ের নায়ক। আর এবার মেসি। তার জোড়া অ্যাসিস্টেই তো জয় পেল আর্জেন্টিনা।

এবারের বিশ্বকাপে শেষ সময়ে জয় তুলে নেয়া অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে আকাশি-নীলরা। তবে এটা কাকতালীয় ভাবলে ভুল হবে। এটাই লিওনেল স্কালোনির স্ট্র্যাটেজি।শুরুতে নির্যাস জমিয়ে রেখে, প্রতিপক্ষের শক্তি ক্ষয় করে, শেষে গিয়ে জ্বলে ওঠা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও এর ব্যাতিক্রম হলো না। যদিও প্রথমার্ধে বিরক্তিকর ফুটবল খেলেছে দু'দলই। ফাউলের প্রতিযোগিতায় মনে হচ্ছিলো ফকল্যান্ড যুদ্ধ ফিরে এসেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দময় ফুটবল উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডও আক্রমণের ধার বাড়ায়। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংলিশরা লিড নেয়। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখে হ্যারি কেইনের দর। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মনে তখন বিদায় ঘন্টা উঁকি দিচ্ছে। 

তবে মেসিদের এ দলটি যে অন্য মাত্রার। শেষ বাঁশি বাজার আগে হাল ছাড়ে না। ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে বল পেয়ে, দারুণ এক শটে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ।   

যোগ করা সময়ে হেডে লাউতারো মার্তিনেজের করা গোলটির উৎসও মেসির ক্রস। ৭ মিনিটের মধ্যে দুই গোল দিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় আর্জেন্টিনা।

ইংল্যান্ড স্বপ্ন দেখেছিল ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার ফাইনালে ওঠার। তা আর হলো না। বরং আর্জেন্টিনার সামনে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।