পারেদেস কেন মেজাজ হারিয়ে মারপিট করছিলেন, কী ঘটেছিল তখন?

লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ। আর্জেন্টিনাও দাঁড়িয়ে ছিল অনন্য এক রেকর্ডের সামনে। ইতালি ও ব্রাজিলের পর টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি। কিন্তু সেই কীর্তি আর ছোঁয়া হয়নি আর্জেন্টিনার। মেটলাইফের ফাইনালে উল্টো হেরে বসেছে স্কালোনির শিষ্যরা।

শুধু হারেই থেমে থাকেনি। ম্যাচ শেষে মেজাজ হারিয়ে স্পেনের দুই ফুটবলারকে মেরে আলোচনায় এসেছেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস। শুধু আলোচনা নয়, এ নিয়ে প্রচুর সমালোচনাও চলছে।

তা কী হয়েছিল তখন?

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেন তখন শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত। এসময় সময় হঠাৎ করেই এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন পারেদেস। একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে তাঁকে ঘুষি মেরে বসেন। স্বাভাবিকভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে আগের চেয়েও বেশি। সেখানে যোগ দেন দুদলের ফুটবলারাই। এক পর্যায়ে আরেক স্প্যানিশ ফুটবলার গাভিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিয়াগো আলমাদা। পারেদেসের রাগ তখনও কমেনি। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এসময় গাভির মুখে একাধিকবার আঘাত করেন।

পরিস্থিতি আরও বাজে আকার ধারণ করলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি দৌড়ে গিয়ে পারেদেসকে সরিয়ে নেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। সেখানে অবশ্য একজন সহকারী রেফারি দাঁড়িয়ে ছিলেন।  পরে প্রধান রেফারি গিয়ে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান।

ঠিক কী কারণে পারেদেস এতটা রেগে গিয়েছিলেন, সেটা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে ঘটনা যাই হোক, এ বিষয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক ইংলিশ ফুটবলার গ্যারি নেভিল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি আর্জেন্টাইনদের লড়াই করার মানসিকতা পছন্দ করি, কিন্তু গত কয়েকটি ম্যাচে তাদের আচরণ খুবই হতাশাজনক ছিল।’

সাবেক আরেক তারকা অ্যালান শিয়ারার বলেছেন, ‘পারেদেস একজনের মুখে দুই-তিনবার আঘাত করেছে। ফুটবলে এর কোনো স্থান নেই। আমরা জানি ম্যাচটি তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং হারলে কতটা কষ্ট হয়, কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটা উপায় থাকে। আর্জেন্টিনার কাছ থেকে আমরা এমন আচরণ আগেও দেখেছি। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়াটি ছিল খুবই বাজে।’

এদিকে ওই সংঘষের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগেনি। দুদলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।