১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া পারেদেস বললেন, ‘এটা অতিরিক্ত’

বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করে বড় নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও কর্মকর্তারা। সবচেয়ে বেশি ধাক্কাটা গেছে লেয়ান্দ্রো পারেসের ওপর। আগ্রাসী আচরণের জন্য পারেদেসকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। সেই শাস্তি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন পারেদেস। আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়রসে খেলা এ মিডফিল্ডারের মতে, এমন শাস্তি অতিরঞ্জিত।

নিজের শাস্তির মাত্রা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে পারেদেস বলেছেন, ‘এটা অতিরঞ্জিত মনে হচ্ছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, গাভিকে মোটে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই তো আমার বুকে ঘুষি মেরেছিল। যাই হোক, এখন আমাদের এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে। যারা এসব বিষয়ে জানেন, তারা দেখবেন কীভাবে এটি বাতিল বা কমানো যায়। আমার কাছে শাস্তিটা অতিরিক্ত মনে হচ্ছে এবং আমার বিশ্বাস, এটা কমানো যেতে পারে।’

শুধু পারেদেসই নয়, শাস্তি পেয়েছেন আর্জেন্টিনার আরও বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে বিনা উসকানিতে স্পেনের রদ্রিকে আক্রমণ করায় নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। থিয়াগো আলাদামাকে এক ম্যাচ ও আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা নিষিদ্ধ হয়েছেন তিন ম্যাচের জন্য। অন্যদিকে স্পেনের শাস্তি পেয়েছেন শুধু গাভি। তাঁকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা।

দুই দলের খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদের এই পার্থক্য আর্জেন্টাইন শিবিরে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এমনকি ফিফার সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছে আর্জেন্টিনা। অবশ্য আর্জেন্টিনার ক্ষেপে যাওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে ফিফা।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়ের পর। ম্যাচ শেষে উদ্‌যাপনের সময় লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, জিওভানি লো সেলসো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এমন একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যেখানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

পারেদেস ও মোলিনার ওপর দেওয়া কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে ফিফার কাছ থেকে একটি কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে এএফএ। আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এএফএকে অনুমতি দিয়েছে, পারেদেস ও মোলিনা তাদের নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো আসন্ন ‘ক্লাস এ’ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কাটাতে পারবেন।

তবে এই সুবিধা পাওয়ার পরও শাস্তি পুরোপুরি বাতিল বা কমানোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এএফএ। ফিফার কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ লিখিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে তারা। এরপর ফিফার আপিল কমিটিতে আনুষ্ঠানিক আপিল করবে এএফএ। প্রয়োজন হলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস)-এর কাছেও যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।