সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আজ রোববারের আগে টানা ৫ ম্যাচ জয়হীন ছিল ইন্টার মায়ামি। তবে সেই দুঃসময় আর দীর্ঘ হতে দেননি লিওনেল মেসি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে একাই ৪ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও এক গোল। মেসির এমন ম্যাজিকাল পারফরম্যান্সের ম্যাচে মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মায়ামি।
অথচ এ ম্যাচে মায়ামির ডাগআউটে ছিলেন না অন্তর্বর্তী প্রধান কোচ গিলের্মো হয়োস। লিগের নির্ধারিত সময়ে কিক অফ নীতি বারবার ভঙ্গ করায় ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি ক্রিস্তিয়ান কিলি গনসালেসকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মায়ামি। সেই আর্জেন্টাইন কোচও ওয়ার্ক পারমিটের অপেক্ষায় মেসিদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি।
মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ম্যাচে ডাগআউট সামলান মায়ামির সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেস। এমন ম্যাচেই গোলের রেকর্ড গড়ল মায়ামি। ক্লাব ইতিহাসে এটাই মায়ামির সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। তাতে জয়ের পথেও ফিরল মায়ামি।
ঘরের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে ২০ মিনিটে কাসেমিরোর গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। ৩৭ মিনিটে সমতায় ফেরায় মন্ট্রিয়েল। এরপর শুরু মেসি ম্যাজিক। ৪০ মিনিটে মেসির ফ্রি কিক মন্ট্রিয়েলের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে সামান্য দিক বদলে আশ্রয় নেয় জালে। তাতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর রূপে ফেরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৫২ মিনিটে প্রায় একক প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। এরপর লুইস সুয়ারেসকে দিয়ে একটি গোল করানোর পর ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে মন্ট্রিয়েল গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ এক চিপ শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তবে সেখানেই থামেননি মেসি। যোগ করা সময়ে আবারও ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল নিজের চতুর্থ ও দলের সপ্তম গোল করেন মেসি। এর বাইরে প্রথমার্ধে মেসির একটি শট পোস্টে লেগে ফিরেছে। মেসির দারুণ এক পাসে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন আলেন। এছাড়া মেসির আরেকটি শট অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। এরপরও ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো এক ম্যাচে ৪ বা তার চেয়ে বেশি গোল করলেন মেসি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এর আগে সর্বশেষ এক ম্যাচে চার গোল করেছিলেন বার্সার জার্সিতে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
মেসির এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন সতীর্থ কাসেমিরো। অ্যাপল টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেছেন, ‘দলে মেসি থাকার অর্থ এটাই। আমাদের এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে হবে। কারণ সে এমন একজন মানুষ ও খেলোয়াড়, যে ইতিহাস তৈরি করে।’
বয়স ৩৯ ছাড়িয়ে গেছে। এখনো রেকর্ড গড়া থামছে না মেসির। এমএলএসে এ নিয়ে ২০টি ম্যাচে একাধিক গোল করলেন মেসি। আর সেটা করতে মেসির খেলতে হয়েছে ৭২ ম্যাচ, যা এমএলএস ইতিহাসে দ্রুততম। আর চলতি মৌসুমেও লিগে ১৯ ম্যাচে ১৮ গোল হলো মেসির, যা এমএলএসে সর্বোচ্চ।
তবে দুর্দান্ত এ জয়েও পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানেই থাকল মায়ামি। ২২ ম্যাচ শেষে ফ্লোরিডার ক্লাবটির পয়েন্ট ৪২। সমান ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে ন্যাশভিলে।



