অপেক্ষা শেষের পথে, জাতীয় দলের দরজায় শুকি ইতোফুসা!

শুকি ইতোফুসার কথা মনে আছে? বাংলাদেশের জার্সি পরার জন্য জাপানের পাসপোর্ট ছাড়তে চেয়েছিলেন। জাপানে বেড়ে ওঠা ২২ বছর বয়সী এ বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফুটবলারকে নিয়ে গত ১৩ জুলাই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন। সেই শুকি ইতোফুসার স্বপ্ন এখন বাস্তবের আরও কাছে!

ইতোফুসা এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন। শুধু তাই নয়, পেয়েছেন বাংলাদেশের জন্মনিবন্ধন। এবার অপেক্ষা শুধু পাসপোর্টের। আর সেটি হয়ে গেলেই শুরু হবে ইতোফুসার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা— বাংলাদেশ জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই।

গত জুলাইতে জানা গিয়েছিল, বাবার দেশ বাংলাদেশের হয়ে খেলতে জাপানের নাগরিকত্ব ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত তিনি। দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন ইতোফুসা। বাংলাদেশে এসে যোগ দিয়েছেন ফর্টিস এফসিতে। ক্লাবটির হয়ে অনুশীলনও শুরু করেছেন এই তরুণ।

সবচেয়ে বড় আপডেট এসেছে তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে। বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, শুকির পাসপোর্টের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। ফর্টিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধে বাফুফের ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যেই তাঁর পাসপোর্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদী বাফুফে। অর্থাৎ, জাপান থেকে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পথে শুকির যাত্রা এখন আর শুধু স্বপ্ন নয়—বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।

'শুকি' নামের জাপানি অর্থ— সুখ বা আনন্দের প্রতীক। ইতোফুসার চুল রাঙানো রুপালি-সোনালি রঙে, উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। তাঁকে দেখে বোঝার উপায় নেই, তাঁর গায়ে বইছে বাংলাদেশি রক্ত। জাপানে বেড়ে ওঠা এই তরুণের বাবা নারায়ণগঞ্জের সন্তান আতাউর রহমান, আর মা জাপানিজ শিজু ইতোফুসা। বাংলা বা ইংরেজি— কোনো ভাষাতেই দক্ষ নন ইতোফুসা, ক্লাবে সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলছেন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে!

তবে ভাষার দূরত্ব থাকলেও ফুটবলের মাঠে তাঁর মেধা স্পষ্ট। গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত ক্রসিংয়ের সমন্বয়ে দুই উইংয়েই খেলতে পারেন শুকি। এমনকি জাপানের মর্যাদাশীল 'এম্পেররস কাপে' গোল করার রেকর্ডও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

হামজা চৌধুরী, শমিত শোম কিংবা জায়ান আহমেদদের পর শিকড়ের টানে আসা ফুটবলারদের তালিকায় নতুন আশার নাম শুকি। তবে পাসপোর্ট মিললেই কিন্তু জাতীয় দলের দরজা সরাসরি খুলছে না! বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি ইতোমধ্যেই শুকি ইতোফুসাকে স্পষ্ট জানিয়েছেনন— জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে আগে মাঠের পারফরম্যান্স টেস্টে পাস করতে হবে।

সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত শুকিও। তাঁর বাবা আতাউর রহমানও জাপান থেকে আশা রাখছেন, ছেলে নিজের মেধা দিয়ে লাল-সবুজের মান রাখবে। মাঠে জাপানি শৃঙ্খলা আর হৃদয়ে বাংলাদেশি আবেগ— এই দুইয়ের শক্তিতে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় এখন ২২ বছরের শুকি।