লন্ডনের প্যালাডিয়ামের জমকালো অনুষ্ঠানের তখন শেষভাগ। একে একে ১২টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এরপরও সবাই তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায়। তখনো যে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত পুরস্কার বিজয়ীর নাম জানাই বাকি!
সেই নাম ঘোষণা করতে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হলো ব্রাজিলের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিওকে। তিনি মঞ্চে উঠে খাম খুললেন। এরপর ঘোষণা করলেন, ২০২৬ ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হ্যারি কেইন!
উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনায় পুরো হলরুম যেন রীতিমতো স্টেডিয়ামে রূপ নিয়েছে তখন। কেউ শিস দিচ্ছেন তো কেউ চিৎকার করছেন। অবশ্য এমন উচ্ছ্বাসের যথেষ্ট কারণও আছে। হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর জেতার মধ্য দিয়ে, সম্মানজনক এ পুরস্কারে ইংলিশদের ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো।
২০২৬ ব্যালন ডি’অর জেতার পথে কেইন পেছনে ফেলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল, লিওনেল মেসির মতো তারকাদের। অবশ্য গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে কেইন যা করেছেন, তাতে ইংলিশ স্ট্রাইকারই ছিলেন এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন কেইন। বায়ার্নের হয়ে শিরোপা জিতেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে দলকে সেমিফাইনালে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এছাড়া জাতীয় দলের হয়েও মৌসুমটা দারুণ কাটিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও তুলেছিলেন তিনি।
কেইনের আগে ইংল্যান্ডের কেউ সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০০১ সালে। সেবার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদার এই ট্রফিটি পান মাইকেল ওয়েন। আর সব মিলিয়ে স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও ওয়েনের পর পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন তিনি।
১৯৫৬ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জয়ী স্ট্যানলি ম্যাথুসের সম্মানে এবার ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় লন্ডনে। ঘরের মাটিতে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানের মূল ট্রফিটা দেশের বাইরে যেতে দিলেন না কেইন!
ক্যারিয়ারে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কেইন বলেছেন, ‘আমি প্রায় ভাষাহীন। লন্ডনে এটা হওয়ায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। জানি এ বছরটা অনেক কঠিন ছিল। এই কক্ষে বিশ্বমানের সব খেলোয়াড়। তাদের এবং বিজয়ী ও মনোনয়ন পাওয়া সবাইকে অভিনন্দন।’