ব্যাডমিন্টন তারকার অভিযোগ

ভারত রোহিত-কোহলিদের বুকে টানে, তাঁদের দেখে সৎমায়ের চোখে

কয়েকদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিরা একদিকে যেমন এ সংস্করণে বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন, তেমনি বোর্ড থেকেও মিলেছে বিরাট অঙ্কের অর্থপ্রাপ্তি। ভারতীয় মুদ্রায় যেটি প্রায় ১২৫ কোটি রূপি। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারত দলকে। পরে সরাসরি সাক্ষাৎ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মুম্বাইয়ে বিশাল জনস্রোত আলাদা করে সংবর্ধনা দিয়েছে রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যদের।

ক্রিকেটাররা যখন একদিকে প্রশংসা-সংবর্ধনা কিংবা অর্থপ্রাপ্তির জোয়ারে ভাসছেন, এটিকে খোঁচা মেরেছেন ভারতের ব্যাডমিন্টন কিংবদন্তি চিরাগ শেট্টি। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ব্যাডমিন্টনকে ভারতে সৎমায়ের চোখে দেখা হয়। এ জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যাপক সমালোচনাও করেছেন তিনি।

ব্যাডমিন্টনে ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্যটা এসেছে চিরাগের হাত ধরে। ২০২২ সালে ব্যাংককে ইন্দোনেশিয়াকে ৩-০ সেটে হারিয়ে থমাস কাপ জেতেন চিরাগ। দেশটির ব্যাডমিন্টন ইতিহাসে এটিই থমাস কাপে প্রথম শিরোপা।

এ সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে চিরাগ বলেন, ‘থমাস কাপ বিশ্বকাপ জয়ের সমতূল্য। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার শিরোপা জেতা দলের সদস্য ছিলাম আমি। ফাইনালে আমরা চ্যাম্পিয়ন ইন্দোনেশিয়াকে চমকে দিয়েছি। ভারত দলে মহারাষ্ট্র থেকে একমাত্র খেলোয়াড় ছিলাম আমিই। সরকার যদি বিশ্বকাপ জেতায় ক্রিকেট তারকাদের সম্মানিত করতে পারে, তাদের উচিত ছিল আমাদের প্রচেষ্টাকেও স্বীকৃতি দেওয়া। সরকারের উচিত অন্য খেলাগুলোকেও সমান চোখে দেখা।’

বর্তমানে প্যারিস অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিরাগ। কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ক্রিকেটের প্রতি তাঁর কোনো রাগ নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে সাবেক এই নাম্বার ওয়ান, ‘আমি কিন্তু ক্রিকেটের বিরুদ্ধে নই। প্রকৃতপক্ষে, আমরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়রাও টিভিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল সরাসরি দেখেছি, ভারতের জয় উদযাপন করেছি। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওরা যেভাবে হারিয়েছে, তাকে আমরা গর্বিত। একইভাবে, দুই বছর আগে আমরাও এমন অসাধারণ কিছু অর্জন করেছিলাম। কিন্তু রাজ্য সরকার আমাদের স্বীকৃতি দেয়নি। কেবল নগদ অর্থ প্রদান করেই ছেড়ে দিয়েছিল।’

নিজের সাফল্যের মাহাত্ম সম্পর্কে বলতে গিয়ে চিরাগ বলেছেন, ‘২০২২ সালের আগ পর্যন্ত ভারত ব্যাডমিন্টন দল কখনো সেমিফাইনালেই যেতে পারেনি। অথচ আমরা সেখানে শিরোপা জিতে ইতিহাস লিখেছিলাম।’