আইফেল টাওয়ারের টুকরা দিয়ে বানানো সাধের পদক দুই মাসেই রঙ হারাল   

প্যারিস অলিম্পিকের পর্দা নামার দুই মাস হয়ে গেলেও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রতিযোগিতা চলাকালেই পদকের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা। এর মধ্যে ডেনমার্কের ব্যাডমিন্টন তারকা ভিক্তর অ্যাক্সেলসন রীতিমতো প্রমাণসহ হাজির হয়েছিলেন। ছেলেদের ব্যাডমিন্টনে (একক) টোকিওতে সোনা জেতার পর প্যারিসেও সে কীর্তির পুনরাবৃত্তি করেন ৩০ বছর বয়সী এ ডেনিশ তারকা।

দুই অলিম্পিকের স্বর্ণ পদক পাশাপাশি রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন ভিক্তর। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, প্যারিসের চেয়ে চার বছর আগের টোকিও অলিম্পিকের পদক বেশি জ্বলজ্বল করছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে প্যারিসের পদকটিকেই ভিন্টেজ মনে হয়েছে।

সে ঘটনার দুমাস পর আবারও প্যারিস অলিম্পিকের পদকের মান নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। এবার প্রশ্ন তুলেছেন হকিতে ব্রোঞ্জজয়ী ভারত দলের সদস্য হার্দিক সিং। তিনি অভিযোগ করেছেন, অলিম্পিকে পাওয়া পদকের রং ক্ষয়ে গিয়েছে।  

দ্য ঝুমরু পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হার্দিক বলেছেন, ‘ওরা বলেছিল, পদকে আইফেল টাওয়ারের লোহার টুকরা আছে। আশা করি, ওটা সত্যি। ওদের একটাই কাজ ছিল, ভালো মানের পদক তৈরি করা। আমি তো সেটা দেখতে পাচ্ছি না। যাই হোক, আমার কোনও সমস্যা নেই। অলিম্পিক্সে পদক জেতা আমার জীবনের সেরা কীর্তি।’

অলিম্পিক পদক প্রথম হাতে নেওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে মজা করে হার্দিক বলেছেন, ‘এ ধরনের অনুভূতিতে আমি অভ্যস্ত।’ মজার ছলে এমনটা বললেও পরে যোগ করেছেন, ‘আমি অলিম্পিক রিংয়ের ট্যাটু করিয়েছি। তবে সেটা অসম্পূর্ণ অবস্থায় আছে। আশা করি পরেরবার স্বর্ণ জিতে সেটা (ট্যাটু) সম্পূর্ণ করব।’

অলিম্পিকে দেশকে সাফল্য এনে দিলেও হকিকে দেশের মানুষ তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে কিছুটা হতাশাও প্রকাশ করেন হার্দিক। তিনি অভিযোগ করেন, হকি খেলোয়াড়দের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলেব্রিটি তথা ভাইরাল ব্যক্তিদের নিয়েই জনগণের আগ্রহ বেশি।

এর আগেও এ আক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে আরেকটি পডকাস্টে হার্দিক বলেছিলেন, ‘বিমানবন্দরে এটা নিজের চোখে দেখেছি। হারমানপ্রীত (সিং), মানদ্বীপ (সিং), আমিসহ সেখানে আমাদের ৫-৬ জন ছিলাম। সেখানে (সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল) ডলি চা ওয়ালাও ছিলেন। মানুষজন তাঁর সঙ্গে সেলফি নিচ্ছিলেন। আর আমাদের চিনতেই পারেননি। আমরা (বিব্রত হয়ে) একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছিলাম শুধু।’  

হারমানপ্রীত-মানদ্বীপদের অর্জন বোঝাতে গিয়ে হার্দিক বলেছিলেন, ‘হারমানপ্রীত দেড়শ-র বেশি গোল করেছে, মানদ্বীপ ১০০-র বেশি।’ এমন ক্যারিয়ারের পরেও দেশের মানুষ তাঁদের চেনেন না বলে আক্ষেপ থাকাটাই স্বাভাবিক হার্দিকের।