কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর তোপের মুখে পড়েছেন ভারতের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী তারকা নীরাজ চোপড়া। টোকিও অলিম্পিকে জ্যাভলিন থ্রোতে ভারতকে স্বর্ণপদক এনে দেয়া নীরাজ তাঁর নিজ দেশের মানুষের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন।
যার নেপথ্যে আছেন পাকিস্তানের জ্যাভলিন থ্রোয়ার আরশাদ নাদিম। প্যারিস অলিম্পিকে নীরাজকে রূপার পদকেই সন্তুষ্ট হতে বাধ্য করে সোনার পদক জেতা আরশাদকে চলতি বছরের মে মাসে বেঙ্গালুরুতে হতে যাওয়া ‘এনসি ক্লাসিক’ নামের এক প্রতিযোগিতার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নীরাজ।
কিন্তু পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের প্রতি আরও বিদ্বেষমূলক মনোভাব জাগিয়ে তোলা ভারতীয়রা নীরাজের এমন আমন্ত্রণ জানানোকে ভালোভাবে নেননি। এমনকি নীরাজের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এ সবকিছু নিয়ে এবার নীরবতা ভেঙেছেন নীরাজ। তিনি জানালেন, তিনি আরশাদকে আমন্ত্রণটা জানিয়েছেন পেহেলগাম হামলার আগে!
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক টুইট বার্তায় পাকিস্তানের আরশাদকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী তারকা। টুইটে নীরাজ লিখেছেন, ‘আমি সাধারণত কম কথা বলি, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি যা ভুল বলে মনে করি তার বিরুদ্ধে কথা বলব না। যখন আমাদের দেশের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং আমার পরিবারের সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় তখন আরও বেশি বলব। নীরাজ চোপড়া ক্লাসিকে আরশাদ নাদিমকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এবং এর বেশিরভাগই ঘৃণা ও গালিগালাজ।’
নীরজ স্পষ্ট করে জানান ,আরশাদকে কাশ্মীরের ঘটনার আগেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। টুইটে লেখেন, ‘ওরা আমার পরিবারকেও বাদ দেয়নি। আমি আরশাদকে একজন ক্রীড়াবিদের তরফ থেকে আরেকজন ক্রীড়াবিদ হিসেবেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম- এর চেয়ে বেশি কিছু নয় এবং কম কিছুও নয়। এনসি ক্লাসিকের লক্ষ্য ছিল সেরা ক্রীড়াবিদদের ভারতে নিয়ে আসা এবং আমাদের দেশকে বিশ্বমানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অন্যতম একটি জায়গা বানানো। পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার দুই দিন আগে, সোমবার সকল ক্রীড়াবিদদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল।’
কাশ্মীরে এমন ঘটনার পর আরশাদের এই প্রতিযোগিতায় আসার প্রশ্নই উঠে না জানিয়ে নীরাজ বলেন, ‘গত ৪৮ ঘন্টায় যা কিছু ঘটেছে, এরপর এনসি ক্লাসিকে আরশাদের আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমার দেশ এবং এর স্বার্থ সর্বদা সবার আগে থাকবে। যারা নিজেদের মানুষ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা এবং প্রার্থনা থাকবে। যা ঘটেছে তাতে সমগ্র জাতির মতোই আমি ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ।’