লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টে লড়াকু অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। সিলেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রানে অলআউট হওয়ার পর প্রথম দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২১ রান। অর্থাৎ, সব উইকেট হাতে রেখে ২৫৭ রানে পিছিয়ে সফরকারী দল।
শনিবার সকালে বৃষ্টির শঙ্কার মাঝেই সিলেট টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দেশের ১০৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয় তানজিদ তামিমের। চোটে পড়া মাহমুদুল হাসান জয়ও ছিলেন প্রথম একাদশে। অন্যদিকে এবাদতের বদলে দ্বিতীয় টেস্টে জায়গা পেয়েছেন শরীফুল।
ঢাকা টেস্টের মতো লাক্কাতুড়ায়ও ব্যর্থ মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম সেশনের দ্বিতীয় বলেই আব্বাসের শিকার এই ওপেনার। মুমিনুলকে সাথে নিয়ে আরেক ওপেনার তামিম আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও ২৬ রানে পৌঁছেই আব্বাসের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ফলে নিজের টেস্ট অভিষেকের ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি তিনি।
প্রথম সেশনেই উইকেট হারান মুমিনুলও। খুররম শাহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে ২২ রানে ফেরেন এই ব্যাটার। চতুর্থ উইকেটে মুশফিক-শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, ফলে প্রথম সেশনে আর উইকেট হারায়নি টাইগাররা।
কিন্তু দ্বিতীয় সেশনেই যেন সব ওলট-পালট। অধিনায়ক নাজমুল শান্তকে দিয়ে শুরু। অন্যদিকে, জীবন পেয়ে মুশফিকও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৬ বলে ৪ রান করে ফিরেছেন মিরাজও। আব্বাস ও খুররামের দারুণ বোলিংয়ে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন ঝুঁকছে বাংলাদেশ।
এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে একাই টেনে তুলেছেন লিটন দাস। তাইজুলকে সাথে নিয়ে সপ্তম উইকেটে গড়েছেন ৬০ রানের জুটি। তাইজুল ফিরলে তাসকিন ও শরীফুলকে সাথে নিয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি।
প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপটাও গড়েছেন লিটন-শরীফুল। শেষ সেশনে হাসানের বলে ১২৬ রানে কাটা পড়েন লিটন। এর তিন বল পরই ২৭৮ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ ৪টি এবং আব্বাস ৩টি করে উইকেট লাভ করেন।
সিলেটে প্রথম দিন মাত্র ৬ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায় পাকিস্তান। তাসকিন-শরীফুল-নাহিদরা উইকেট নেওয়ার চেস্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বিনা উইকেটে ২১ রানে দিন শেষ করে পাকিস্তান।



