নারী অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে নানা বিতর্ক হচ্ছে গত কয়েক বছর। রূপান্তরিত নারী ও বাড়তি হরমোন- নানা কারণেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৮ অলিম্পিকে ট্রান্সজেন্ডারদের নারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেবে না আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে চাওয়া অ্যাথলেটদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করছে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস। অ্যাথলেটিকসের বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা প্রমাণ করতে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেনেটিক পরীক্ষা দিতে হবে।
গত মার্চেই বিশ্ব অ্যাথলেটিকস বলেছিলে, শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে মুখের লালা বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্রোমোজম পরীক্ষা দিতে হবে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর টোকিওতে শুরু হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চাওয়া নারী অ্যাথলেটদের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার জন্য নাম দিতে বলা হয়েছে।
২০০৯ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্যাস্টার সেমেনিয়া ৮০০ মিটারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তাঁকে লিঙ্গ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তাঁর টেস্টোস্টেরোন এর মাত্রা পুরুষদের মতো হওয়াতেই যত প্রশ্ন।
২০১৮ সালে সেমেনিয়ার মতো যে অ্যাথলেটরা বয়ঃসন্ধিকালে লিঙ্গ গঠন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতার (ডিএসডি) মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের জন্য টেস্টোস্টেরোন কমানোর ওষুধ গ্রহণ করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নিয়ম করেছিল বিশ্ব অ্যাথলেটিকস।
কিন্তু সেমেনিয়া তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। বিশ্ব অ্যাথলেটিকদের নিয়মের বিরুদ্ধে আপিলে তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপিয়ান মানবাধিকার কোর্টে একটি রায় পক্ষে পেয়েছেন। তবে সে রায় বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের জিন পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে বাতিল করতে পারছে না।
বিশ্ব অ্যাথলেটিকস বলছে, নতুন এই পরীক্ষা জীবনে মাত্র একবারই দিতে হবে অ্যাথলেটদের। এই পরীক্ষায় দেখা হবে, পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোজম অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের কারও মধ্যে আছে কিনা। সংস্থাটির সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো বলেছেন, ‘আমরা বলতে চাই , শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে চাইলে, আপনাকে জৈবিকভাবে নারী হতে হবে।’
বিশ্ব অ্যাথলেটিকস এই পরীক্ষার জন্য ১০০ ডলার পর্যন্ত খরচ বহন করবে প্রতি অ্যাথলেটের জন্য। দুই সপ্তাহের মধ্যে ফল জানা যাবে, ‘এসআরওয়াই (লিঙ্গ-নির্ধারক ওয়াই জিন) পরীক্ষা খুবই নিখুঁত এবং ফলস পজিটিভ বা নেগেটিভের সম্ভাবনা নেই বললে চলে।’