জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায় ‘নারী’ হিসেবে খেললেও তাঁদের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে অনেকদিন ধরেই বিতর্ক ছিল। নারী হিসেবে খেললেও অনেকেই অভিযোগ করেন, তাঁরা আসলে পুরুষ।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের শেষ টেনেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি। জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, অন্যদিকে কবিতা নৌবাহিনীর। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর লিঙ্গা নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায় ফেডারেশনের আগের কমিটি।
সেই অনুরোধের ভিত্তিতেতে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ১১ মে শেষ হয় তাঁদের কার্যক্রম। এর ৫ দিন পর মেডিক্যাল বোর্ড চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ফেডারেশনের কাছে।
মেডিক্যাল বোর্ডের দেওয়া ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে। রক্তে জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/ লিটার) প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে (২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার) সাড়ে ৬ গুণের বেশি।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন দেশীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই দুই খেলোয়াড়ের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ ৯টি পদক রয়েছে। কবিতার পদক গোটা চারেক। পদকগুলো বডিলি শিফট হয়ে যাবে এখন।’ আলী ইমাম যোগ করেন, ‘তাদের দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর খেলতে পারবে না।’