এক মাসে আগেও ইউএস ওপেনে অংশ নেওয়াটাই অনিশ্চিত ছিল ইয়ানিক সিনারের। জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর গত মার্চে নিষিদ্ধ বস্তু গ্রহণের পরীক্ষায় (ডোপ টেস্টে) দুবার ইতিবাচক হওয়ায় ইউএস ওপেন থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা জাগে ইতালিয়ান টেনিস তারকার।
তবে গত ১৯ দিন আগে সে শঙ্কা থেকে মুক্তি মেলে সিনারের। জানানো হয়, ইউএস ওপেনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই র্যাঙ্কিংয়ে নাম্বার ওয়ান টেনিস তারকার। সে সিনারই গতকাল ইউএস ওপেনে ছেলেদের এককের ফাইনালে স্বাগতিক টেইলর ফ্রিৎজকে ৬-৩, ৬-৪ ও ৭-৫ গেমে হারিয়ে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতে নিয়েছেন। যা চলতি বছরে সিনারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম, পুরো ক্যারিয়ারে তাঁর গ্র্যান্ড স্লামের সংখ্যাও তাই।
এর আগে ১৯৭৭ সালে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে নিজের প্রথম দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন গুলেরমো ভিয়াস। সিনারের কল্যাণে ৪৮ বছর পর সে স্মৃতি ফিরে এল ফ্লাশিং মিডোজে। নিউ ইয়র্কের হার্ড কোর্টে প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তিটাও গড়লেন সিনার।
গতকাল শিরোপা নিশ্চিত হতেই কান্নায় ভেঙে গড়েন সিনার। তবে এ কান্না যে আনন্দের, সেটা বোধহয় না বললেও চলে। এ সম্পর্কে ম্যাচ শেষে সিনার বলেছেন, ‘এ শিরোপাটা আমার কাছে অনেক কিছু। কারণ ক্যারিয়ারের গত কিছুদিনের সময়গুলো আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।’
নিষেধাজ্ঞার তো শঙ্কা ছিলই, এর পাশাপাশি পারিবারিক অসুস্থতা মিলিয়ে সময়টা আরও বিরূপ হয় সিনারের জন্য। এ প্রসঙ্গে ২৩ বছর বয়সী এ টেনিস তারকা বলেছেন, ‘আমার আন্টির শরীরটা খুব একটা ভালো নেই। জানি না আমার জীবনে তাঁকে আর কতদিন পাব। তবে এটা ভালো লাগার যে, আমার জীবনের এ দারুণ মুহূর্তগুলো তার সঙ্গে উপভোগ করতে পারছি। উনি আমার জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।’
সিনার যোগ করেন, ‘যদি এমন কোনো ইচ্ছা, যা আমি পূরণ করতে পারতাম, আমি সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এটা (ইচ্ছেপূরণ) সম্ভব নয়।’
এদিকে ইউএস ওপেনে গত ২১ বছরে প্রথম আমেরিকান হিসেবে ফাইনালে উঠেছিলেন ফ্রিৎজ। এর আগে ২০০৩ সালে সর্বশেষ এ কোর্টে শিরোপা জেতা মার্কিন তারকা অ্যান্ডি রডিকও গতকাল উপস্থিত ছিলেন গ্যালারিতে। ঘরের মাঠে প্রচুর সমর্থনও পেয়েছেন ফ্রিৎজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি তিনি।
সে জন্য ম্যাচ শেষে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্রিৎজ, ‘আমি জানি যে, আমরা অনেকদিন ধরেই (মার্কিন) চ্যাম্পিয়নের অপেক্ষায় আছি। এবার সে অপেক্ষার অবসান ঘটাতে না পারায় আমি ভীষণ দুঃখিত।’