‘ক্লে’ কোর্টের রাজা কে, দেখিয়ে দিলেন আলকারাস

ক্লে কোর্টের রাজা একজনই- রাফায়েল নাদাল। ১৪টি ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী এই স্প্যানিয়ার্ডকে আদর্শ মানেন কার্লোস আলকারাস। কিংবদন্তির সঙ্গে দুটি মিল আছে আলকারাসের। নাদালের মতো তিনিও স্প্যানিশ এবং রেয়াল মাদ্রিদের কড়া সমর্থক।

আরেকটা মিল আছে। হারের আগ পর্যন্ত হার না মানার মানসিকতা। আর সে মানসিকতাই গতকাল ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে এক মহাকাব্যিক ম্যাচ উপহার দিল। ৫ ঘণ্টা ২৯ মিনিট স্থায়ী স্নায়ুক্ষয়ী এক ম্যাচে র‍্যাঙ্কিং-সেরা ইয়ানিক সিনারকে ৪-৬, ৬-৭(৪), ৬-৪, ৭-৬(৩), ৭-৬(১০-২) গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে নিলেন আলকারাস। টানা দ্বিতীয়বারের মতো রোলাঁ গারোতে জিতলেন ২২ বছর বয়সী তারকা।

এ প্রজন্মের সেরা দুই তারকার ম্যাচ। একদিকে মেজর টুর্নামেন্টে টানা ২০ ম্যাচজয়ী সিনার। অন্যদিকে আগের চারবারের দেখায় জয়ী আলকারাস। গত আটটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের সাতটিই জিতেছেন এই দুজন। তবে এই প্রথম কোনো ফাইনালে দেখা হলো দুজনের। তাতে ২০০০ এর পর জন্ম নেওয়া দুই ফাইনালিস্টকে এই প্রথম দেখা গেল পুরুষ এককে। 

এবং দর্শকদের হতাশ করেননি তাঁরা। উন্মুক্ত যুগে এরচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ফাইনাল হয়েছে মাত্র একবার। আর আলকারাসের আগে মাত্র একজনই পেরিয়েছিলেন ম্যাচ পয়েন্ট সেভ করে শিরোপা জিততে। তাও একটি নয়, তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট। 

শুরুটাও হয়েছিল দুর্দান্ত। ম্যাচের প্রথম গেমটি চলেছে ১২ মিনিটে, পাঁচবার ডিউসের পর অবশেষে জয় পান সিনার। একবার সার্ভ ব্রেক করলেও সিনারকে প্রথম সেটে আটকাতে পারেননি আলকারাস (৪-৬)। দ্বিতীয় সেটেও ১-৪ গেমে পিছিয়ে পড়েছিলেন আলকারাস। কিন্তু টাইব্রেকে আবার হেরে যান (৬-৭)। তৎক্ষণে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে।

ক্যারিয়ারে কখনো দুই সেট হেরে যাওয়ার পর ম্যাচ জিততে পারেননি আলকারাস। তবে নিজের প্রিয় কোর্টে হাল ছাড়েননি, তৃতীয় সেট (৬-৪) জিতেছেন সিনারের সার্ভ ব্রেক করে। তবে চতুর্থ সেটে মনে হয়েছিল, এত লড়াইয়েও লাভ হচ্ছে না। ৩-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন, সিনার তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট পেয়ে গিয়েছিলেন। 

এরপরও লড়ে গেছেন আলকারাস এবং নাদাল ও গুস্তাভো কুয়েরতেনের পর মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই শতাব্দীতে টানা দুবার ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছেন। ১৯৬৮ সালের পর মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালের সবগুলো জিতেছেন আলকারাস। 

এ কীর্তিতে তাঁর পাশে আছেন রজার ফেদেরার। তবে আলকারাস খুশি অন্য কীর্তিতে নাদালের পাশে বসার, ‘নাদালের মতো একই বয়সে নিজের পঞ্চম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়টা মনে হচ্ছে ভাগ্যে লেখা। এই রেকর্ড আমি আজীবন যত্ন করে রাখব… এটা অনেক বড় সম্মান। আশা করি এখানেই শেষ হবে না।’

২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম বা ১৪টি ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী নাদালের সঙ্গে তুলনীয় হতে আরও বহু পথ পাড়ি দিতে হবে আলকারাসকে। তবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের আর তর সইছে না নতুন এক রাজাকে বরণ করে নিতে। গতকাল ম্যাচ শেষে তাই অফিশিয়াল পেজ থেকে টুইট করা হয়েছে, ‘কার্লোস দুই, ক্লে কোর্টের রাজা।’