এ যেন সুকুমার রায়ের ‘সৎপাত্র’ কবিতার গঙ্গারাম। উনিশবার ম্যাট্রিকে ফেল করে থেমেছিল সে। তবে তামিলনাড়ুর পদ্মরাজন কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র নন। ২৩৮ বার ভোটে হারের পরও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চলেছেন তিনি। আর এ কারণেই পদ্মরাজন হয়েছেন খবরের শিরোনাম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘ইলেকশন কিং বা ভোটের রাজা’ হিসেবে কে পদ্মরাজনকে চেনেন সবাই। ভোটে লড়া যেন তাঁর নেশা। বছরের পর বছর মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু ভোটে জেতেন না কখনই। ভোটে হেরে যাওয়ার রেকর্ড তৈরি করে ফেলেছেন তামিলনাড়ুর এই বাসিন্দা।
পদ্মরাজন মোট ২৩৮ বার হেরেছেন ভোটে। ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ফের প্রার্থী হতে চলেছেন তিনি। ধরমপুরী কেন্দ্র থেকে এবার ভোটে লড়বেন ৬৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।
পদ্মরাজন জানান, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকেরই ভোটে লড়ার অধিকার আছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সব রকমের ভোটে লড়েছেন তিনি। লিমকা বুক অব রেকর্ডস, এশিয়া বুক অব রেকর্ডস ও দিল্লি বুক অব রেকর্ডসে নাম উঠেছে তাঁর। ভারতের নির্বাচনের ইতিহাসে সব থেকে ব্যর্থ প্রার্থীর তকমা পেয়েছেন তিনি।
পদ্মরাজন যাদের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছেন, তা জানলে অবাক হবেন অনেকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, জয়ললিতা, এম করুণানিধি, এ কে অ্যান্টনি, এসএম কৃষ্ণর মতো নেতার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ৬ বার শুধু রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই লড়েছেন তিনি।
পদ্মরাজন ভোটে লড়তে এখন পর্যন্ত ১ কোটি রুপির মতো খরচ করেছেন। তামিলনাড়ুর সালেমে টায়ার মেরামতের একটি দোকান আছে তাঁর। সেখান থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই ভোটে লড়েন তিনি। পদ্মরাজনের মতে, অনেক সময় হারের মধ্যেই জয়ের আনন্দ থাকে।