বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট বোর্ড। করোনাকালে অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলো যখন অর্থাভাবের কথা জানাচ্ছিল, তখন বিসিবি বেশ গর্ব করে জানিয়েছিল, ব্যাংকে ৯০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের কথা। এরপর তিনটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট হয়েছে, ক্রিকেট বোর্ডের জমানো অর্থের পরিমাণও বেড়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিসিবির কোষাগারে বর্তমানে অর্থের পরিমাণ ১২শ কোটি টাকা। তবে বোর্ডের অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না জাতীয় দল।
সেক্ষেত্রে মনে হতেই পারে এত টাকা রেখে কী লাভ? এত টাকা হাতে রেখেও যদি দেশের ক্রিকেট কাঠামো বদলানো না যায়, পাইপলাইন ঠিক না করা যায়, মাঠের পারফরম্যান্স আদায় করা না যায়-তাহলে সে অর্থ ব্যয় করার উপায় তো খুঁজতে হবে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার মতো সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও আজ সেদিকে হাঁটেননি নাজমুল শান্তরা। ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্সের পর তাদের তো চাইলেও পুরস্কার দিতে পারছে না বিসিবি। ফলে ভাণ্ডারের অর্থ আপাতত ব্যবহারের সুযোগ হচ্ছে না।
চলুন দেখা নেওয়া যাক, ক্রিকেট মাঠে সাফল্য না পাওয়ার হতাশায় বিসিবি তাদের ১২০০ কোটি টাকা দেশের অন্য কোন কাজে লাগাতে পারে।
১. স্টেডিয়াম বানানো:
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাফল্য না পাওয়ার কারণ অতিমাত্রায় মিরপুর নির্ভরতা। নতুন একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানানোর কাজে হাত দিয়েছে বিসিবি। তবে এটা তো মানতেই হবে, ভালো করতে চাইলে এক নয়, একাধিক মাঠ দরকার বিসিবির। তাই ক্রিকেটারদের পেছনে ব্যয় না করে মাঠেই অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে বোর্ড।
২. দ্বিতীয় মেট্রোরেল তৈরি:
ঢাকায় উত্তরা থেকে মতিঝিল মেট্রোরেল তৈরি হওয়ার পর রাজধানীর মানুষ খানিকটা স্বস্তি পেয়েছে। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় মেট্রোরেল প্রকল্প শুরু হয়েছে। সে প্রকল্পেও প্রচুর অর্থ দরকার হবে। বিসিবি চাইলেই নিজেদের ফান্ড থেকে অর্থ বিনিয়োগ করে প্রকল্পের গতি বেগবান করতে পারে। এতে ক্রিকেটারদের ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিরপুর বা নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে পৌঁছানোও সহজ হয়ে উঠবে।
৩. মিরপুর থেকে সাভারে উড়াল সেতু তৈরি:
ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম ম্যাচ ভেন্যু সাভারের বিকেএসপি। যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ চলাকালীন অনেক সময় যানজটের কারণে যেতে দেরি হয়ে যায় ক্রিকেটারদের। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বেশ কয়েক ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। বিসিবি তাই নিজ উদ্যোগে একটি উড়াল সেতুর প্রকল্প হাতে নিতে পারে। অবশ্য প্রকল্পের বাকি অর্থের জোগান কোথা থেকে হবে সেটা একটা ভাবনার বিষয়।
৪. যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিদেশি ক্রিকেটার ধার করে জাতীয় দল বানানো:
প্রথমে অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল। এখন ক্রিকেটেও দেখা যাচ্ছে এই কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রসহ সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, কানাডা- এই দেশগুলোতে ভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা এসে যোগ দিচ্ছেন জাতীয় দলে। সফলতাও পাচ্ছে তারা, যার বড় প্রমাণ চলতি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পারফরম্যান্স।
আফগানিস্তানের ৮-৯ জন ক্রিকেটার প্রতিনিয়ত আইপিএলে খেলছেন। দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রতিনিয়ত দারুণ সব প্রতিভার আবির্ভাব হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তান থেকে বড় রকমের চুক্তিতে ক্রিকেটারদের প্রলুব্ধ করে বাংলাদেশে ডেকে আনা যেতে পারে।
৫. রাসেলস ভাইপার সামলানো:
বাংলাদেশে বর্তমানে রাসেলস ভাইপার একটি আতঙ্কের নাম। এই সাপটির কারণে আতঙ্কে দিন কাটছে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। পরিস্থিতি সামালাতে সর্বস্তরের পদক্ষেপ নিতে হবে। এত বড় ধরনের প্রকল্পে প্রচুর অর্থ প্রয়োজন হয়। এরই মধ্যে জীবিত রাসেলস ভাইপার ধরার জন্য ৫০ হাজার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এক রাজনীতিবিদ। বিসিবি চাইলে এই ১২০০ কোটি টাকা এই খাতে খরচ করতে পারে।