কোপা আমেরিকা শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশে বিশ্বকাপের পর ফুটবলের এই আসর নিয়েই হল্লা হয় বেশি। এর মূল কারণ অবশ্যই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। যেহেতু এ দেশের বেশির ভাগ ফুটবল ভক্ত এই দুই শিবিরে বিভক্ত, ফলে কোপাতেও সেই কেন্দ্রিক কথার লড়াই বা প্রকারান্তরে কোপাকুপি শুরু হয়ে যায়।
এবার কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট উপলক্ষে হলুদ ও সাদা‑আকাশী নীল রঙের এ দেশীয় শিবিরের পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে নেমেছে ‘সরস’ টিম। এরই মধ্যে একজন ব্রাজিল সমর্থকের কল্পিত সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এর কারণ হিসেবে সাদা‑আকাশী নীলের জার্সি পরিহিতদের ‘মাস্তানি’ মনোভাবকে দায়ী করেছেন তিনি।
তবে অনেক তদবিরের পর নিজের একটি ছদ্মনাম জানিয়েছেন সেই ব্রাজিল সমর্থক। সেটি হলো ‘ভিনিমার’।
চলুন, পড়ে ফেলা যাক ভিনিমারের নেওয়া সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত।
প্রশ্ন: জগতে এত নাম থাকতে, আপনার ছদ্মনাম এমন কেন?
উত্তর: আমরা এখন আর্জেন্টিনা স্টাইলে এগোনোর চেষ্টা করছি। ওরা যেমন শুধু মেসিকে নিয়ে আছে, তেমনি আমরাও এক‑দুজনকে কেন্দ্র করে থাকতে চাইছি। ভিনিসিয়ুস এবার আমাদের অন্ধের যষ্ঠী। আর নেইমার তো আপাতত ‘সারা’ জীবনের অবলম্বন! আর কাউকে তো পাচ্ছি না সেভাবে। তাই দুজনকে মিশিয়ে ‘ভিনিমার’‑এর উদ্ভব। একে আমাদের অবচেতন মনের এক দুরাশা বলতে পারেন।
প্রশ্ন: সেভেন‑আপের প্রসঙ্গ চলেই আসে…
উত্তর: আহ্, এই প্রসঙ্গ কেন? এমনিতেই আপনারা আর্জেন্টিনাকে গুরুত্ব বেশি দিয়ে আমাদের সাক্ষাৎকার পরে নিচ্ছেন। সেটা নিয়ে কি কিছু বলেছি? তারপরও কেন এই খোঁচাখুচি? ওইটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। এর বেশি কিছু নয়। আমরা হেক্সা জয়ের মিশনে আছি। আমাদের মনযোগ নষ্ট করবেন না, খবরদার।
প্রশ্ন: হেক্সা জয়ের মিশন! আর কতদিন চলবে এই মিশন?
উত্তর: যতদিন জয় না হবে, ততদিন। প্রয়োজনে আজীবন। যদি দরকার হয়, তবে টম ক্রুজকে মাঠে নামিয়ে দিয়ে হলেও আমরা এই মিশন ইমপসিবলকে পসিবল করে তুলব। বিশ্বকাপ আবার ঘরে না আসা পর্যন্ত মাঠে, ঘাটে, টয়লেটে আমাদের মিশন হেক্সা চলবে।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার কিছু কি ভালো লাগে? নাকি সবই বাঁকা চোখে দেখেন?
উত্তর: ওদের হাতের কাজ ভালো। পা ধরতে পারে, গোলও দিতে পারে। হাতের এমন বহুমুখী ব্যবহার সত্যিই অতুলনীয়। সৌদিদের সঙ্গে ওদের বিশ্বকাপের ম্যাচটাও দেখা হয় মাঝে মাঝেই। ৯০ মিনিটের ম্যাচ স্লো মোশনে ১৮০ মিনিট দেখারও অভিজ্ঞতা আছে। আর সবচেয়ে বেশি যেটা ভালো লাগে, সেটা হলো অপরিসীম ধৈর্য্য। এ দেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা অসীম ধৈর্য্যের অধিকারী। নইলে তো আর একজনের হাতের স্মৃতি মাথায় নিয়ে ৩০ বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করে থাকা যায় না। এটা ভালো। মানে, হাল ছাড়া যাবে না, এমনকি সেই হাল ভেঙে টুকরো হয়ে গেলেও না!
প্রশ্ন: ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ কী?
উত্তর: (বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে, ফুঁপিয়ে) …আচ্ছা, আর্জেন্টিনা কি কখনোই ৭ গোল খাবে না? আমরা আর কতদিন অপেক্ষা করব? সত্যি বলছি, আর ভালো লাগে না! জার্মানি কি আর্জেন্টিনাকে চোখে দেখে না? ওদেরকে আমরা ক্ষমা করব না। একবার আর্জেন্টিনাকে সাত গোল দিলে কী হয়? একবার দিলেই ঝামেলা মিটে যেত। তাও গত বিশ্বকাপে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে যাওয়ায় একটু সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরে বিশ্বকাপ জিতে ফেলায় আর বেশি কিছু বলাও যায় না। এখন তো কথা বলাই কঠিন হয়ে গেছে। তবে হ্যাঁ, এটুকুই বলতে পারি যে, আমরা শুধু পা দিয়েই খেলি। অন্যের পা ধরিও না, পায়ের খেলায় হাতও ঢুকাই না। ওইটা শুধুই ‘আরজিতেনা’র কারবার!
[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এরপরই ভিনিমার টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকার জন্য নিজের টি‑শার্ট তুলে মুখের দিকে এগিয়ে নেন। এরপর আর কথা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। বরং সরস প্রতিবেদক টিস্যু কিনতে পাশের দোকানে যেতে বাধ্য হন!]