মনের ভাব প্রকাশের জন্যই মানুষ কথা বলে, লেখে। কিন্তু তারপরও অনেক কথাই থাকে, যেগুলোতে কিনা আরও বৃহৎ অর্থ লুকায়িত থাকে। এই কারণেই প্রচলন হয়েছে ভাবসম্প্রসারণের। এর মাধ্যমে অনেক লুকিয়ে থাকা ভাব সম্পর্কে জানা যায়। এমন এমন ভাব, যা আপনারা হয়তো কখনো ভাবেনইনি!
স্কুলজীবনে ভাবসম্প্রসারণ না লেখা এবং না পড়া মানুষ এই দেশে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে হ্যাঁ, আমরা আজ আপনাদের সামনে হাজির করতে চলেছি এক নতুন ধরনের ভাবসম্প্রসারণ। তার পোশাকি নাম হলো ‘রম্য ভাবসম্প্রসারণ’। ভাবসম্প্রসারণ পড়তে পড়তে বিরক্ত যে কেউ ‘ধুর, ছাতার মাথা’ বলে মনে মনে যে ভাবের সম্প্রসারণ করে, সেটিই হলো রম্য ভাবসম্প্রসারণ। এবার তাহলে পড়েই নিন তেমনই একটি ভাবসম্প্রসারণ।
আরও পড়ুন:
মূলভাব
অনেক সময়ই বাস্তবতা নিয়ে এক ধরনের ধন্ধ লাগে আমাদের। কোনটি বাস্তব, কোনটি অবাস্তব, আর কোনটিই’বা পরাবাস্তব—তা নিয়ে শুরু হয় বিশ্বাস–অবিশ্বাসের দোলাচল। ঠিক, সেই সময়ই এক অবিনাশী কণ্ঠ হেসে বলে ওঠে—‘হা হা হা…এটাই বাস্তব!’ এভাবেই দোলাচলে থাকা মানুষেরা ফিরে এসে পা রাখে বাস্তবতার কঠিন–কঠোর জমিনে। বুঝতে পারে মিছে বিভ্রম। জানতে পারে বাস্তবতার স্বরূপ।
সম্প্রসারিত ভাব
পৃথিবীতে অনেক বস্তুই চক চক করে। কিন্তু সব বস্তুই সোনা হয় না। ইংরেজিতে প্রবাদও আছে: ‘All that glitters is not gold.’ অনেকসময় ভালো মতো পলিশ করলে ও আলো ঠিকঠাক পড়লে রূপাও চক চক করতে পারে। আবার হীরা তো চক চক করায় আরও এগিয়ে। ঠিক তেমনি, অনেক সময় ভালো পুঁতিও চক চক করতে পারে। তাই সাবধানে থাকা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, সব মানুষই সমান নয়। কেউ সোনার মতো, কেউবা রূপা, আবার হীরাও মিলতে পারে। এটিও ঠিক যে, হীরা ভেবে পুঁতিও মিলতে পারে। সুতরাং মানুষকেও কষ্টি পাথর দিয়ে ঘষে পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। যেভাবে মানুষকে পরীক্ষা করে ঠিক–বেঠিক বুঝে নিতে হয়, ঠিক সেভাবেই প্রথমে বুঝে নিতে হয় বাস্তবতাকে। এরপর আসে তা মেনে নেওয়ার কাল। সুতরাং, যাই ঘটুক বা ঘটতে থাকুক না কেন জীবনে, যদি অস্বাভাবিক মনে হয় কোনোভাবে, তাহলেই মনে করতে হবে সেই কালজয়ী বাণী। ‘হা হা হা…এটাই বাস্তব’—এই বাক্যটি একবার আওড়াতে হবে। যদি মনে মনে বলে মেনে নিতে পারেন, তাহলে ভালো। নইলে উচ্চারণ করতে হবে সশব্দে। নিজের মুখের শব্দ নিজের কানের মাধ্যমে ঢুকবে ব্রেনে। আর এভাবেই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বাস্তবতা মেনে নেওয়া অনেক সময়ই কঠিন হয়। কিন্তু তারপরও মেনে নিতে হয়। আর সেজন্য মেনে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। কারণ আমরা জানি যে, ‘মানুষ অভ্যাসের দাস’। তাই যৌবনশক্তির দুর্বার গতিবেগে প্রাণচঞ্চল ব্যক্তিদের দুর্মর সংগ্রামের ক্ষুরধার পথে অবিরত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাস্তবতা মেনে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করাও এক কঠিন সংগ্রাম। সংগ্রাম-সংঘাতের মধ্য দিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ ফসলটি তুলে নিতে হয় পটল তোলার মতো করেই। এই সংগ্রামী পথে গোলাপ ফুলের পাঁপড়ি ছড়ানো থাকে না। উল্টো থাকে কাঁটা। কখনও কখনও পেরেকও ছড়িয়ে দেয় কেউ কেউ। তাই না দেখে অন্ধের মতো হাঁটতে থাকলে পায়ে ফুটে যেতে পারে এসব, হতে পারে সেপটিক। তাই এ ধরনের সংগ্রামে সব সময় পকেটে বা পার্সে একটু তুলো, ছোট বোতলে এন্টিসেপটিক লিকুইড বা ক্রিম রাখতে হবে। রাখা যেতে পারে ব্যান্ডএইড টাইপের ছোট ব্যান্ডেজও। এতে করে প্রবল উদ্যমে ফের হাঁটা শুরু করা যাবে। আর হাঁটা সব সময়ই স্বাস্থ্যের উপকার করে। এতে করে শরীরও ভালো থাকে। অন্যদিকে শরীর ভালো থাকলে, জীবনে অনেক সুখও থাকে। কারণ মনীষীরা বলে গেছেন, ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। আবার সুখ নিয়ে কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার তো ‘সদ্ভাব শতক’ গ্রন্থে সেই কবেই লিখে গেছেন, ‘কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে / দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?’ সুতরাং, মাথায় রাখতেই হবে—‘দুঃখ বার বার, সুখ কিন্তু একবার!’
আরও পড়ুন:
উপসংহার
ফেসবুকে রিল দেখা কমানো যাবে না। ইউটিউবের শর্টস দেখা বাদ দেওয়াটাও উচিত না। কারণ, কবিগুরু বলেছেন, ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন’। তাই টিকটক দেখাটাও শুরু করে দেওয়া প্রয়োজন। জীবনে কখন কি কাজে লেগে যায়, তা তো আর বলা যায় না!