নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রগামী করতে হবে

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রগামী করতে নারীর রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর অধিকার বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।  'বর্তমান পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন' বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই কথা বলেন। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আসনসংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানো এবং এই ব্যবস্থা দুই-তিন মেয়াদ পর্যন্ত বহাল রাখা দরকার। সব রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ পদে নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর নারী অধিকারবিরোধী ও নারী-বিদ্বেষী প্রচারণা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ' সংবিধানের নারী-পুরুষের সমতা ও ন্যায্যতার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক ইশতেহারে নারী ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে না। ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সংরক্ষিত আসনে সংখ্যা বৃদ্ধি, সরাসরি নির্বাচন এবং নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণের জন্য মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হলেও বিষয়টি নারী নীতিতে তেমন গুরুত্ব পায়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর আসনসংখ্যা বাড়ানো, নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণ এবং বেশি সংখ্যক নারীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন চায় মহিলা পরিষদ।'