ফেসবুকে মেয়েদের ছবি চুরি, প্রতিকার পাবেন কীভাবে?

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

হয়তো আপনার পরিচিত কোনো স্কুলপড়ুয়া মেয়ের ফেসবুক আইডি থেকে অদ্ভুত কিছু বার্তা পেলেন। অবাক হবেন না, হয়তো আপনার পরিচিত সেই মেয়েটি সাইবার অপরাধের নির্মম শিকার। এমন ভুয়া আইডি তৈরি করে বিভিন্নজনকে পাঠানো হচ্ছে অত্যন্ত 'ইঙ্গিতপূর্ণ' ও 'অশালীন' বার্তা। আবার কাউকে করা হচ্ছে ব্ল্যাকমেইল। অনেক সময় থানায় অভিযোগ করেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার মিলছে না। এর পেছনে আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কোথায়? কী করলে প্রতিকার পাবেন? আজ আমরা তা-ই জানার চেষ্টা করব।

নারীদের সাইবার ঝুঁকি

পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের কেন্দ্র করে মূলত চার ধরনের অপরাধ বেশি দেখা যায়।

    এক. হুবহু একই নাম ও ছবি ব্যবহার করে অথবা অন্য কোনো ছদ্মনামে নারীদের ছবি দিয়ে ফেক বা ভুয়া আইডি তৈরি করা।

    দুই. পরিচিত বা সেলিব্রিটি নারীদের ছবি বিকৃত বা এডিট করে অশালীন পোস্টের মাধ্যমে অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা চালানো।

    তিন. মূল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মেসেঞ্জারে বন্ধুদের কাছে টাকা চাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়।

    চার. ভুয়া আইডি থেকে টার্গেট করা নারীদের কিংবা সাধারণ মানুষকে নোংরা মেসেজ পাঠিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা।

পুলিশের সাইবার সাপোর্ট পেজে গেলেই দেখা যায়, এমন শত শত নারী প্রতিদিন বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন।

পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারছে না কেন?

অনেকেই প্রশ্ন করেন, থানায় জিডি করার পরও কেন মাসের পর মাস ভুয়া আইডিগুলো বন্ধ হয় না? তবে কি পুলিশ কাজ করছে না?

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, আসল সমস্যাটি প্রযুক্তিগত এবং এখতিয়ারের। সাইবার স্পেসের এই অপরাধগুলোর সমাধানের চূড়ান্ত ক্ষমতা আসলে পুলিশের কাছে থাকে না, এটি থাকে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে। বাংলাদেশে যখন কেউ কোনো প্রত্যন্ত থানা বা জেলা পর্যায়ে জিডি করেন, তখন সেই অভিযোগটি সরাসরি মেটার কাছে যায় না। এটি কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ পার হয়। থানা থেকে জেলা পুলিশ, সেখান থেকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স এবং পরে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) হয়ে সেটি যায় মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে।

সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয় ভাষার কারণে। আমাদের দেশে জিডিগুলো সাধারণত লেখা হয় বাংলায়। কিন্তু মেটা কর্তৃপক্ষ বাংলা জিডি গ্রহণ করে না। ফলে পুলিশকে প্রথমে সেই জিডি নোটারির মাধ্যমে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ।

ফেসবুক কখন সাড়া দেয়, আর কখন দেয় না?

মেটার কাছে আবেদন পাঠানোর পরও তারা সব আবেদনে সমানভাবে সাড়া দেয় না। সাইবার কর্মকর্তাদের মতে, কিছু সুনির্দিষ্ট এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে মেটা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাড়া দেয়। যেমন—চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, পর্নোগ্রাফি ছড়ানো, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার কিংবা অপহরণের মতো মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে ফেসবুক দ্রুত আইডি ব্লক করে এবং তথ্য দেয়।

কিন্তু ব্যক্তিগত ভুয়া আইডি তৈরি, ছবি চুরি, হ্যাকিং বা মানহানির মতো অপরাধগুলোকে মেটা অনেক সময় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ফলে এই ধরনের সাধারণ মানুষের করা অভিযোগগুলোর জবাব পেতে মাসের পর মাস সময় লেগে যায়, কিংবা অনেক সময় মেটা কোনো উত্তরই দেয় না। আর মেটা তথ্য না দিলে পুলিশের পক্ষেও অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাহলে সমাধান কোথায়?

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ার মূল কারণ হলো ফেসবুক বা মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো অফিশিয়াল আইনি চুক্তি নেই। মেটা পুলিশকে যা তথ্য দেয়, তা মূলত আনঅফিশিয়াল।

সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার মতে, এই ধরনের অপরাধ দ্রুত দমন করতে হলে প্রয়োজন ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি’ (MLAT)। যদি কোনো দেশের সরকারের সঙ্গে মেটার এই চুক্তি থাকে, তবে মেটা আইনগতভাবেই বাধ্য থাকে অপরাধে ব্যবহৃত ডিভাইসের তথ্য, আইপি অ্যাড্রেস বা ফোন নম্বর সরবরাহ করতে। বর্তমানে এই চুক্তি না থাকায় কেবল মন্ত্রী, এমপি বা হাইপ্রোফাইল মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের করণীয় কী?

এখন একটি প্রশ্ন মনে আসাই স্বাভাবিক—তাহলে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনার করণীয় কী?

    প্রথমত: আপনার ফেসবুক প্রোফাইলটি লক রাখুন এবং ছবিগুলোর 'প্রাইভেসি' শুধুমাত্র বন্ধুদের (Friends) জন্য দিয়ে রাখুন।

    দ্বিতীয়ত: যদি ভুয়া আইডি খোলাই হয়ে যায়, তবে ভয় না পেয়ে নিজের আসল আইডি থেকে বন্ধুদের বলুন ওই ভুয়া আইডিতে একসঙ্গে 'ফেক অ্যাকাউন্ট' (Fake Account) হিসেবে 'রিপোর্ট' করতে। একসঙ্গে অনেক রিপোর্ট পড়লে আইডি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়।

    তৃতীয়ত: অবশ্যই কাছের থানা বা 'পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন' (Police Cyber Support for Women) পেজে দ্রুত তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানান।

মনে রাখবেন, সাইবার জগৎকে নিরাপদ করতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গণিত অনেকের কাছেই কঠিন একটি বিষয়। সমীকরণ আর জটিল তত্ত্বে ভরা এই জগৎ অনেক সময় ভয়ও জাগায়। কিন্তু এই কঠিন বিষয়কেই নিজের ভালোবাসা আর মেধা দিয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন মরিয়ম মির্জাখানি। তাঁর...
নারীর প্রতি ক্রমশ বাড়তে থাকা নিপীড়নের মধ্যে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। যুদ্ধ, মানব পাচার আর সাইবার জগতে নারীর সুরক্ষায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্বের...
এক সময়ের ঝলমলে রাজপ্রাসাদ, রাজকীয় আভিজাত্য আর আধুনিক ইরানের স্বপ্ন সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। ফারাহ পাহলভি, ইরানের শেষ সম্রাজ্ঞী এবং আধুনিক মুসলিম বিশ্বে প্রথম মুকুটধারী নারী। সৌন্দর্য,...
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী...
সংবাদ সম্মেলনে মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা জানান, চক্রটি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছিল। গ্রেপ্তারকৃতের কাছ থেকে ১টি মাইক্রোবাস, ৭টি মোবাইল...
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করার অন্যতম কুশিলব মেজর মোজাফফর। এরপর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গোপনে দাফনের মূল পরিকল্পনাও তার;...
রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দ্রুতগামী অজ্ঞাত এক গাড়ির ধাক্কায় সেকান্দার আলী নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর