দেশে সফল, এবার বিদেশেও ব্যবসা বাড়াতে চান ৬ নারী উদ্যোক্তা

এখন নারীরা ঘরে বসে থাকছেন না। পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি চাকরি করছেন, আবার কেউ কেউ হচ্ছেন উদ্যোক্তা। ব্যবসার প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন। আবার ব্যবসার প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একা একা নিচ্ছেন। তবে, এ কাজে চলার পথে তারা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন যে হচ্ছেন না, তা কিন্তু নয়। উদ্যোক্তা হতে গেলে বাধাও বাতাসের মতো সমানতালে আসতে থাকে। নারীর ক্ষেত্রে এই বাধা আরো বেড়ে যায়। আশার বিষয় হচ্ছে শত বাধা–বিপত্তি পেরিয়ে দেশজুড়ে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

নতুন বছর সবার কাছেই আলাদা সম্ভবনা নিয়ে আসে। নতুন বছরকে ঘিরে সকলের মধ্যে থাকে নতুন নতুন স্বপ্ন। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা নানা আঙ্গিকে তাঁদের স্বপ্নের প্রসার ঘটান। অতীতের তেতো অভিজ্ঞতা থেকে পাঠ নিয়ে সামনের দিকে চোখ রেখে তাঁরা এগিয়ে যান। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা তাঁদের সতর্ক করে নতুন আরেকটি বছরের পথচলার পরিকল্পনা প্রণয়নে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের সাহস ও মনোবল জোগাচ্ছে অতীতের যুদ্ধজয়। এমনই ছয় উদ্যোক্তার সাথে আলাপে উঠে আসে তাঁদের উদ্যোগ ও তার সাফল্যের কথা।

মুনিয়া জামান
মুনিয়া জামান ‘কালিন্দী’র কর্ণধার। ২০২১ সালে নিজের মতো করে কাজ করার জন্য ‘কালিন্দী’ প্রতিষ্ঠা করেন। ‘কালিন্দী’র প্রধান পণ্য পাটের ব্যাগ। এখানে পাট দিয়ে তৈরি করা হয় ল্যাপটপ ব্যাগ, মানিব্যাগ, লেডিস ব্যাগসহ আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ। পাটের ব্যাগের পাশাপাশি ‘কালিন্দী’তে পাটের ফ্লোর ম্যাটও তৈরি হয়।

এখানকার পাটের তৈরি ব্যাগগুলোর নাম চিত্রা, শীতলক্ষ্যা, গড়াই, রূপসা, পদ্মা আবার কোনোটার নাম ইছামতী, তিস্তা, কাজলা কিংবা তিতাস। নদীর নামে বিভিন্ন ব্যাগের নামকরণ করেন মুনিয়া। তিনি বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা পাট চাষের জন্য খুবই উর্বর। পাট চাষে নদীর গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে কালিন্দীর প্রতিটি ব্যাগের নাম রাখা হয় নদীর নামে। পারিবারিকভাবে আমাদের পাটের ব্যবসা, নিজস্ব কারখানাও রয়েছে। সেই কারখানার অবশিষ্ট কাঁচামাল দিয়ে তৈরি করা হয় কালিন্দীর ব্যাগ।’

‘কালিন্দী’র বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ। ছবি: ‘কালিন্দী’–এর সৌজন্যে২০২২ সালে যাত্রা–তে 'কালিন্দী'র প্রথম স্থায়ী ডিসপ্লে কর্নার চালু হয়। এ ছাড়া ঢাকার লালমাটিয়ার শান্তিবাড়ি ও বনানী এবং খুলনার শিববাড়িতে আছে নিজস্ব পণ্যের ডিসপ্লে কর্নার। বর্তমানে ‘কালিন্দী’ বেশকিছু প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করছে। এ ছাড়া নতুন বছরে অন্তত আরও দুই জেলায় অফলাইনে ‘কালিন্দী’র পণ্য বিক্রির আগ্রহ আছে বলে জানান মুনিয়া জামান।

দেশের বাজারে দেশীয় পণ্য নিয়ে টিকে থাকতে হলে প্রতিবছরই পণ্যের ডিজাইনে পরিবর্তন আনতে হয় বলে মনে করেন মুনিয়া। তিনি বলেন, ‘কালিন্দীতে ইতিমধ্যে নতুন পণ্য এসেছে। বেশ কিছু নতুন ডিজাইনেরও কাজ চলছে। নতুন বছরে কমপক্ষে ১০-১৫টি নতুন ডিজাইন বাজারে আনার ইচ্ছা আছে। সেই সঙ্গে দামটাও যেন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

ঋতিষা চাকমা
ঋতিষা চাকমা জেন্সি ‘বক্স অব অর্নামেন্টস’–এর কর্ণধার। রাঙামাটি শহরে জন্ম ঋতিষার শৈশব কেটেছে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে। ছোটবেলা থেকেই গয়নার প্রতি আগ্রহ ছিল। ২০১৭ সালে মাস্টার্সের এই শিক্ষার্থী মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে  ‘বক্স অব অর্নামেন্টস’ নিয়ে কাজ শুরু করেন।

‘বক্স অব অর্নামেন্টস’ এর হরেক রকমের গয়না। ছবি: ‘বক্স অব অর্নামেন্টস’–এর সৌজন্যে‘বক্স অব অর্নামেন্টস’র উল্লেখযোগ্য গয়না হলো—আলছড়া, হুজি হারু (পেঁচানো চুড়ি), আজুলি (হাঁসুলি), পায়ের খারু, বাজু, চন্দ্রহার ও রেয়ন সিল্কের গয়না। ঋতিষা নিজের ভাবনায় প্রথম রেয়ন সিল্ককে গয়না হিসেবে ব্যবহার করেন। রেয়ন সিল্ক মূলত কোমর তাঁতে বোনা এক ধরনের ফেব্রিকস, যা পাহাড়ের নারীরা বুনে থাকেন।  ঋতিষা বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য, ভাষা, পোশাক যেমন আছে, তেমনি গয়নারও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব গয়না সম্পর্কে আমরা খুব কম জানি। তাই সকলকে এই গয়নার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। এখন নতুন প্রজন্ম এই গয়নাগুলো চেনে, নাম জানে। অনেকে বিয়েতেও আমাদের তৈরি গয়না পরেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

বর্তমানে ‘বক্স অব অর্নামেন্টস’–এর গয়না শহর–গ্রাম ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে যাচ্ছে। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে ক্রেতারা ‘বক্স অব অর্নামেন্টস’ থেকে পণ্য কেনেন। বর্তমানে ঋতিষার প্রতিষ্ঠানের মাসিক আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো। ২০২১ সালে উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ট্রাস্ট (উই) থেকে ঋতিষা চাকমা ‘জয়ী অ্যাওয়ার্ড’ পান।

ঋতিষা তাঁর কাজ নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে চান। নতুন নতুন গয়না নিয়ে সারা বিশ্বে নিজেদের পরিচয় বাড়াতে চান। পাশাপাশি তাঁর নিজের সম্প্রদায়সহ বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করাতে চান। ঋতিষা চাকমা মনে করেন, শুধু নতুন বছরে নয়, আগামী অর্ধ দশকজুড়ে নারী উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য হবে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হবেন নারী উদ্যোক্তারা। 

আসমা হক কান্তা
আসমা হক কান্তা ‘ধবল’–এর কর্ণধার। ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেন ধবলের কাজ। ২০১৫ সালে গ্রাম থেকে নিয়ে আসা গরুর দুধ বিক্রি দিয়ে চালু হয় ‘ধবল’–এর কাজ। ধীরে ধীলে মধু, তেল, ঘি—এগুলোও যোগ হতে থাকে। এরপর যুক্ত করা হয় আচার। এ পর্যন্ত ধবলে আচারের ক্রেতাই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ধবলে পিঠা, ফ্রোজেন স্ন্যাক্স, নিত্যদিনের ফ্রোজেন রুটি, পরোটা, মসলা, খেজুর গুড় পাওয়া যায়।

ব্যবসার প্রয়োজনে উদ্যোক্তাদের অনেক ভাবনা–চিন্তা মাথায় রাখতে হয়। কীভাবে প্রতিষ্ঠানের সফলতা ধরে রাখা যায়। ক্রেতাদের মন জয় করা যায়। আসমা হক কান্তা বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন আইটেম যোগ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাথায় রেখেছি কোন পণ্যগুলোর মাধ্যমে মানুষ তাঁর জীবনের সুন্দর স্মৃতিতে ফিরে যেতে পারবেন। যেমন: পিঠা, আচার, নাড়ু—যা ধবলের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত খাবার। নাগরিক জীবনের ছুটে চলার মাঝে এই খাবারগুলো আমাদের গ্রামের স্মৃতি, দাদি–নানির আদর, পারিবারিক আনন্দের সময়গুলো মনে করিয়ে দেয়। ‘ধবল’ ঐতিহ্যবাহী পিঠা একেবারে গ্রামীণ স্বাদেই তৈরি করে। এ কারণে আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, আপু মনে হয় নানি-দাদি বা মায়ের হাতের পিঠা খাচ্ছি। এখানেই আমাদের সফলতা।’

‘ধবল’–এর বিভিন্ন ধরনের খাবার। ছবি: ‘ধবল’–এর সৌজন্যেনতুন বছর নিয়ে কান্তার পরিকল্পনা হচ্ছে, নিত্যদিনের কিছু কৃষিপণ্য ধবলে যোগ করা। ধবলে বর্তমানে ২৫ জন নারী কর্মী সরাসরি কাজ করছেন। পুরুষ কর্মী আছেন ৭ জন। এ ছাড়া কাঁচামাল সরবরাহে আরও ১০ থেকে ১২ জন পরোক্ষভাবে যুক্ত। কান্তা বলেন, ‘এখানে অনেকখানি ভালো লাগা কাজ করে যে, ধবল এতগুলো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। ৮ মাস হলো আমরা আউটলেট নিয়েছি। সেখানে চাইনিজ, কিছু বাংলা আইটেম এবং আমাদের অন্যান্য পণ্যগুলোও পাওয়া যায়।’

কান্তা মনে করেন, নারী উদ্যোক্তাদের হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। শুধু পরিবার, সমাজ থেকে বাধা না আসুক। আমরা নারী উদ্যোক্তারা অনলাইন আর অফলাইন—দুই জায়গাতেই কাজ করে নিজেদের প্রমাণ করব।

মাধুরী সঞ্চিতা
মাধুরী সঞ্চিতা স্মৃতি ‘ঋ’–এর কর্ণধার। ২০০৮ সাল থেকে ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ডিজাইনার হিসেবে রঙ বাংলাদেশ–এ প্রথম কাজ শুরু করেন। এরপর এক দশক ধরে যাত্রা, আড়ং, অরণ্য, ফ্রেন্ডশিপ–এ ফেব্রিকস ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন।

ঋ’–এর বিভিন্ন ধরনের গয়না। ছবি: ‘ঋ’–এর সৌজন্যেনানা প্রতিষ্ঠানে মাধুরী কাজ করতে করতে ভাবেন নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে হলে নিজের কিছু একটা থাকা দরকার। অনেকটা শখের বশেই জুয়েলারি নিয়ে কাজ শুরু করেন। সেই শখই এক সময় তাঁর পেশা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৮ সালে নিজের তৈরি করা শখের জুয়েলারি নিয়ে ‘ঋ’–এর যাত্রা করেন। তিনি সবসময় চেষ্টা করেন প্রকৃতির বিভিন্ন জিনিসপত্র ব্যবহার করে জুয়েলারি তৈরি করতে। ‘ঋ’–এর জুয়েলারির অধিকাংশ জিনিসই কড়ি, ঝিনুক, কাঠ, পোড়ামাটি, পাটের রশি ও নানা ধরনের বীজ। এর পাশাপাশি সিলভার, গোল্ড নিয়েও কাজ করেন। সঞ্চিতা বলেন, ‘যখন আড়ং–এ কাজ করতাম তখন ডায়মন্ড ও গোল্ডের গয়নার নকশা করেছি। তবে আমাকে ফেব্রিকস থেকে জুয়েলারির ডিজাইনই বেশি টানে।’

মাধুরী সঞ্চিতার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে জার্মানিতে গিয়ে পার্ল ও উড উপকরণ দিয়ে জুয়েলারি তৈরির ওয়ার্কশপ। তুলসী, হরীতকী, রুদ্রাক্ষ, তেঁতুল, করলা, কৃষ্ণচূড়াসহ নানা বীজের গয়না তৈরি করেন তিনি। ‘যাত্রামেলা’য় ‘ঋ’–এর একটি শোকেস আছে, যেখানে সিলেকটিভ জুয়েলারি পাওয়া যায়। দেশের বাইরে ভারত, কানাডা ও সাউথ কোরিয়ায় ‘ঋ’–এর জুয়েলারি যায়। সঞ্চিতা বলেন, ‘ভবিষ্যতে কানাডা ও ভারতে একটা সেন্টার করতে চাই, যেখানে আমার নকশা করা জুয়েলারিগুলো চাইলে যে কেউ অর্ডার করে কিনতে পারবেন। দেশে ধামরাই, সাভার, নিউমার্কেট, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, পাবনা—মোটামুটি এই কয় জায়গায় ‘ঋ’–এর কাজ হচ্ছে। এখানকার জুয়েলারি তৈরির ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যাই বেশি।’

বছরের শুরুতেই সঞ্চিতার নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা ‘ঋ’–কে আরেকটু বেশি সময় দেওয়া। আর মনের গহীনে একটা ছোট্ট বাসনা—এ বছর দেশের বাইরে ‘ঋ’–এর সৌন্দর্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মনোযোগী হওয়া।

জেব উন নাহার যূঁথী
‘পদ্মপুরাণ’–এর কর্ণধার জেব উন নাহার যূঁথী। ২০১৬ সালে মাত্র ছয় হাজার টাকা নিয়ে মনিপুরী সম্প্রদায়ের বোনা মনিপুরী শাড়ি নিয়ে কাজ শুরু করেন। দেশীয় আলপনা, ছয় ঋতু, কৃষিকাজ, নাগরিক জীবন, নৃত্যরত নারী বা পাহাড়ের নারী উঠে এসেছে পদ্মপুরাণের শাড়িতে।

‘পদ্মপুরাণ’–এর শাড়িসহ  বিভিন্ন পোশাক। ছবি: ‘পদ্মপুরাণ’–এর সৌজন্যেযূঁথীর আঁকার নেশা ছিল ছোটবেলা থেকে। তাই মনিপুরী শাড়ির সঙ্গে হাতে আঁকা পোশাকও তৈরি করেন। বর্তমানে ‘পদ্মপুরাণ’–এ হাতে আঁকা শাড়ি, কামিজ, ব্লাউজ পিসসহ অন্যান্য হোম ডিজাইন এবং পোশাক পাওয়া যায়। যূঁথী বলেন, ‘পদ্মপুরাণ’ মূলত হাতে আঁকা শাড়ি নিয়ে কাজ করে। এ ছাড়া হাতে আঁকা যেকোনো পোশাক, গৃহসজ্জার বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন: পর্দা, চাদর, পেইন্টিং ইত্যাদিও কাস্টমাইজড ভিত্তিতে করে। শুধু ফুল–লতা–পাতা নয়, চেনা জানা যেকোনো জিনিস ডিজাইনের গুণে যেন আলাদা বৈশিষ্ট্য পায়—‘পদ্মপুরাণে’ সেটার চেষ্টা থাকে বেশি।’

কানাডা, আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে আছে ‘পদ্মপুরাণ’–এর নিয়মিত ক্রেতা। উৎসবের সময় এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়। অন্যান্য সময় ব্যয় বাদ দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো আয় হয় যূঁথীর। 
যূঁথী বলেন, ‘নতুন বছরে নতুন পরিকল্পনা, নতুন কর্মপন্থা নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই। দেশীয় বিভিন্ন মোটিফকে নতুন করে তুলে ধরতে চাই। পদ্মপুরাণ যেহেতু হাতে আঁকা শাড়ি এবং অন্যান্য কাপড় নিয়ে কাজ করে, তাই আরেকটু অগ্রসর হতে চাই। বিভিন্ন রকম পটচিত্র, আলপনা, প্রাচীন গীতিকাধর্মী গল্পগুলো তুলে আনতে চাই আমাদের কাজে। এ ছাড়া বাঙালি উৎসবগুলোর জন্য বিশেষ আয়োজন তো করবই। দেশের অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তারা আরও বেশি অংশগ্রহণ করুক। পাশাপাশি ক্রেতা–বিক্রেতাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হোক।’

সাবিনা ইয়াসমিন মাধবী
সাবিনা ইয়াসমিন মাধবীর জন্ম নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। ২০১৭ সালে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ‘মাধবী মার্ট’–এর যাত্রা শুরু করেন। মাধবী মার্টের সিগনেচার পণ্য নকশীকাঁথা। এর ক্রেতারা গত ৭ বছর ধরে নকশীকাঁথার জন্য মাধবীকে চেনেন। তবে ‘মাধবী মার্ট’–এর হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক যেমন: জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, সিলেটের মনিপুরী শাড়ি, রাজশাহী সিল্ক, কুমিল্লার খাদি কাপড় পাওয়া যায়। তা ছাড়া পরিবেশবান্ধব পণ্য হুগলাপাতার বিভিন্ন ধরনের পণ্য, কচুরিপানা, সুপারিপাতা, বাঁশ–বেতের পণ্য ও মাটির পণ্যও পাওয়া যায়।

‘মাধবী মার্ট’–এর বিভিন্ন পণ্য। ছবি: ‘মাধবী মার্ট’–এর সৌজন্যে‘মাধবী মার্ট’–এর উত্তরায় শোরুম আছে। আর কারখানা রয়েছে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলায়। মাধবী বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের উচিত শুধু দেশের কথা চিন্তা না করে সারা বিশ্বের বাংলাদেশের পণ্য পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে প্রযুক্তির কারণে পুরো বিশ্ব হাতের মুঠোয়। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা–বাণিজ্যে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।’

বর্তমানে মাধবীর মাসিক আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। অনেক কাজ করতে চান মাধবী। নতুন বছরে এই সাহসী উদ্যোক্তার অনেক পরিকল্পনার মধ্যে একটি হলো চট্টগ্রামে শোরুম চালু করা। আর গুণগত মানের ও সুলভ মূল্যে সবার হাতে পণ্য পৌঁছে দেওয়া।