শিক্ষাবিদ, নারীনেত্রী হেনা দাস। তিনি নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। হেনা দাসের চেতনা, কর্মমুখী জীবন আজকের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। হেনা দাসের লেখা তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে। তাঁর লেখা ‘চার পুরুষের কাহিনী’ ইতিহাসের সাক্ষী।
সংগঠনের প্রয়াত সভাপতি হেনা দাসের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় তাঁর লেখা ‘চার পুরুষের কহিনী’ প্রবন্ধের উপর আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। গতকাল ১৯ মে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আনোয়ারা বেগম ও মুনিরা খান মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, হেনা দাসকে খণ্ডিতভাবে তাকে বোঝা যাবে না। সমাজের উঁচু থেকে নীচু সকল শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে তাঁর সখ্য ছিল। একজন প্রগতিশীল, কুসংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, সহনশীল এবং নবজাগরণে বিশ্বাসী ছিলেন হেনা দাস। তিনি স্বার্থহীনভাবে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নতির জন্য কাজ করেছেন। তাঁর লেখায় তৎকালীন রাজনৈতিক–সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিক উপস্থাপিত হয়েছে সুস্পষ্টভাবে। হেনা দাসের আন্দোলন ছিল সকল বৈষম্য থেকে মানুষকে মুক্ত করা। এ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তরুণদের ভাবনাকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, হেনা দাসের চার পুরুষের কাহিনী পড়া না থাকলে জীবনে অনেক কিছুই অজানা থেকে যাবে। এটি আত্মজীবনীমূলক হলেও শুধুই তাঁর আত্মকথন নয়। বইটি তাঁর চার পুরুষের সময়কালে সমাজ–রাজনীতি ও ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল। এই বইটিতে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের চিত্র তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আজকের পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার অর্চি হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ খালিদ, শান্তি ও সংঘর্ষ শিক্ষার্থী সামিরা রহমান, উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফারাব আল রহমান ভূইয়া এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের গবেষণা ও পাঠাগার উপপরিষদ সদস্য হালিমা তুস সাদিয়া।
আরও পড়ুন: